ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ট্রাম্পের

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধবিরতি শেষ হলেও তেহরানের অনুরোধে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, “ইরান আমাদের কাছে ‘আলোচনা’ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছে। আমরা তাতে রাজি হয়েছি। তবে যুক্তরাষ্ট্র কোনোরকম অস্পষ্টতা না রেখেই তাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, যুদ্ধবিরতি এখন পুরোপুরি শেষ।” এর মধ্য দিয়ে ভেঙে পড়ল সুইজারল্যান্ডে সই হওয়া ১৮ জুনের ১৪ শর্তের ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ও। রয়টার্স, বিবিসি, সিএনএন।
সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির শোকানুষ্ঠানের মধ্যেই ইরান জুড়ে মার্কিন বাহিনীর দুদিনব্যাপী বিমান হামলার পর এ ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, এবারের হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায় ইরানও। এ উত্তেজনা বাড়ার ঘটনা ঘটে সপ্তাহের শুরুর দিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে অবনতি হওয়ার পর। ঘটনার সূত্রপাত হয় গত মঙ্গলবার, যখন গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচলের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় চলমান ‘যুদ্ধবিরতি’ বাতিল ঘোষণা করেন ট্রাম্প। এরপর ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নজিরবিহীন হামলা শুরু করে মার্কিন বাহিনী। এমন পরিস্থিতিতে দুপক্ষে উত্তেজনা কমাতে শুক্রবার কাতারের শান্তি আলোচকরা ইরানে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরা তাদের আলোচনার লক্ষ্য। ইরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ বলেছে, কাতারের আলোচক দল ইরান সফর করছে দোহার পক্ষ থেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের ভূমিকা সুসংহত করতে।
এর আগে গত বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, গত ৮ এপ্রিল দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি আর কার্যকর নেই। একই সঙ্গে ইরানি শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনাও করেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ‘ওদের মধ্যে কিছু সমস্যা আছে। ওরা অসুস্থ। খারাপ মানুষ।’ সে সময় আরও বলেছিলেন, ইরানকে যদি এই সংকট থেকে বাঁচতে হয়, তবে তাদেরই আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে হবে; মানতে হবে নতুন কিছু শর্তও।




