ডোনাল্ড ট্রাম্প
কমিউনিজমই আমেরিকার সবচেয়ে বড় হুমকি

ফেইথ অ্যান্ড ফ্রিডম কোয়ালিশম সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি রাজনৈতিকভাবে সমাজতান্ত্রিক ও বামপন্থী মতাদর্শের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, কমিউনিজম বা সমাজতন্ত্র প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, পার্ল হারবার বা ৯/১১-এর পর থেকে আমেরিকার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।
নিজের মালিকানাধীন সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে স্থানীয় সময় রবিবার রাতে এ পোস্ট দিয়েছেন ট্রাম্প।
যেখানে তিনি লিখেছেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, পার্ল হারবার বা ৯/১১-এর পর থেকে কমিউনিজমই আমাদের দেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।
এছাড়া ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত ফেইথ অ্যান্ড ফ্রিডম কোয়ালিশন-এর ‘রোড টু দ্য মেজরিটি’ সম্মেলনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি একই মন্তব্য করেছেন।
ট্রাম্প মূলত কোনো বিদেশি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র (যেমন : চীন বা কিউবা) নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল ও সমাজতান্ত্রিক ধারার প্রার্থীদের লক্ষ্য করে এই মন্তব্য করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
নিউইয়র্কের প্রাথমিক (প্রাইমারি) নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা (ডিএসএ) সমর্থিত কয়েকজন বামপন্থী প্রার্থীর জয়ের পরপরই তিনি আক্রমণাত্মক এই রাজনৈতিক বার্তা দেন। এছাড়া ট্রাম্পের যুক্তি, এই তথাকথিত কমিউনিস্টরা আমেরিকার চার্চগুলো বন্ধ করে দেবে এবং খ্রিস্টধর্মসহ সব ধরনের ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর আঘাত হানবে।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই মতাদর্শের কারণে দেশে কোনো বাড়ি-ঘর বা আইনশৃঙ্খলা থাকবে না এবং আমেরিকা একটি তৃতীয় বিশ্বের দেশে পরিণত হবে।
আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বড় বিপর্যয়—যেমন পার্ল হারবার আক্রমণ (১৯৪১) কিংবা ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলা (২০০১)—এর চেয়েও এই আদর্শিক লড়াইকে তিনি বড় হুমকি মনে করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প সবসময় তার নির্বাচনী প্রচারণায় এবং সমর্থকদের চাঙ্গা করতে উগ্র-বামপন্থী বা কমিউনিস্ট জুজু ব্যবহার করতে পছন্দ করেন।
যেসব ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে তিনি কমিউনিস্ট বা পশু বলে আখ্যা দিয়েছেন, তারা মূলত নিজেদের ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট (গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক) হিসেবে পরিচয় দেন। এছাড়া মার্কিন আইনসভার নতুন সদস্য হিসেবে তাদের এককভাবে রাষ্ট্রব্যবস্থা বদলে দেওয়ার মতো কোনো বড় ক্ষমতাও নেই।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বক্তব্যটি মূলত আগামী নির্বাচনগুলোকে সামনে রেখে রক্ষণশীল ভোটারদের নিজের পক্ষে টানার একটি বড় রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।





