ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প
৮৫ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার দুই শিশু

জীবিত উদ্ধার করা হয় ১১ বছরের শিশু মোইসেসকে। ছবি: বিবিসি
ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা। চারিদিকে শুধু ধ্বংসস্তূপ আর ধ্বংসস্তূপ। সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা তিন দিনের বেশি সময় আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার করা হয়ছে ১১ বছরের দুই শিশুকে। এ ঘটনাকে উদ্ধারকর্মীদের বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
বুধবার আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর, দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়েছে এক হাজার ৪৫০ জনে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ।
এ ভূমিকম্পের ৮৫ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার করা হয় মোইসেসকে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে বের করে আনছেন তাকে। সূর্যের আলো থেকে চোখ রক্ষার জন্য ঢেকে রাখা হয়েছিল তার চোখ। তাকে উদ্ধারের সময় করতালি দিয়ে উদ্ধারকর্মীদের অভিনন্দন জানান উপস্থিত সবাই।
এর কয়েক ঘণ্টা পর আরও এক ১১ বছরের শিশুকে জীবিত উদ্ধারের তথ্য জানান অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা স্ট্রেচারে করে শিশুটিকে ধ্বংসস্তূপের বিশাল স্তূপের ওপর থেকে নিচে নামিয়ে আনছেন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘এই মুহূর্তে প্রতিটি জীবনই ভেনেজুয়েলার জন্য আশার প্রতীক।’
কলম্বিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, প্রায় তিন মিটার গভীরে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছিল মোইসেস। তাকে উদ্ধার করতে প্রায় ছয় ঘণ্টা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান চালাতে হয়েছে উদ্ধারকারী দলকে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, উদ্ধার অভিযানের সময় এক উদ্ধারকর্মী ওয়্যারলেস বার্তায় জানান, তার মা ও বোনের কাছাকাছি পাওয়া গেছে মোইসেসকে। তবে মারা গেছেন বাকি দুজনই।
বুধবার মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধসে পড়ে শত শত ভবন। এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন বহু মানুষ। স্বজনদের খুঁজে পেতে খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করছেন অসংখ্য মানুষ। অনেকেই জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শোনা যাচ্ছে মানুষের আওয়াজ। কিন্তু ভারী কংক্রিট সরানোর মতো যন্ত্রপাতি না থাকায় অসহায়ভাবে উদ্ধারকারী দলের অপেক্ষা করছেন তারা।
উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, এখনো জীবিত মানুষকে উদ্ধারের আশা রয়েছে। বিশেষ করে যারা ধ্বংসস্তূপের নিচে খাদ্য ও পানির নাগাল পেয়েছেন, তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় লা গুইরা অঞ্চল। এখানকার কারাবালেদা শহরে পরিচালিত হচ্ছে জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম।
নিরাপত্তার জন্য নিজেদের গাড়িতে কিংবা বিমানবন্দর, গলফ মাঠসহ খোলা জায়গায় অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন হাজারো মানুষ। জরুরি চিকিৎসা, ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে কারাবালেদার গলফ মাঠ।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত অনেকের অভিযোগ, সরকারের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম প্রয়োজনের তুলনায় ধীরগতির। কারিবে ও তানাগুয়ারেনাসহ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকায় এখনো অনেক স্থানে ধ্বংসস্তূপ অপসারণের কাজই শুরু হয়নি।
এদিকে উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে মেক্সিকো, স্পেন, কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়কারী টম ফ্লেচার জানিয়েছেন, কাজ করছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৩৯টি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল। প্রতিটি দলে রয়েছেন ৫০ থেকে ১০০ জন সদস্য। তার ভাষ্য, প্রায় দুই হাজার উদ্ধারকর্মী, ১১১টি অনুসন্ধানী কুকুর, চিকিৎসক দল এবং অত্যাধুনিক ক্ষুদ্র ড্রোন ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।





