টঙ্গীতে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা

ঝুট ব্যবসা ঘিরে উত্তেজনা, তদন্তে পুলিশ। ছবি: সিসি টিভি ক্যামেরা থেকে নেওয়া।
গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক শিল্প এলাকায় একটি কারখানায় বিদেশি ক্রেতারা অবস্থানকালে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা।
রবিবার দুপুরের আগে কয়েক শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে একদল ব্যক্তি শিল্প এলাকায় প্রবেশ করলে কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারী, আশপাশের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাটি টঙ্গী শিল্পনগরীর পাগার এলাকায় অবস্থিত ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার লিমিটেড কারখানার সামনে ঘটে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, সকাল ১১টা ৫৭ মিনিটের দিকে মোটরসাইকেলের বড় একটি বহর কারখানার সামনে এসে অবস্থান নেয়। পরিস্থিতির কারণে আশপাশের কয়েকটি দোকান সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বহরের কয়েকজন প্রতিনিধি কারখানায় প্রবেশ করে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারা নিজেদের একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার অনুসারী পরিচয় দিয়ে ঝুট ব্যবসা তাদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে পরিচালনার দাবি জানান। সমঝোতা ছাড়া অন্য কাউকে ঝুট না দেওয়ার কথাও বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আল আমিন বলছিলেন, ‘একজন বড় নেতার লোক পরিচয়ে কয়েকজন এসে ঝুট ব্যবসা নিয়ে তাদের অবস্থান জানিয়ে গেছেন। তখন কারখানার ভেতরে বিদেশি ক্রেতারাও উপস্থিত ছিলেন, ফলে সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।’
ঝুট ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান বললেন, ‘আমরা নিয়ম মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করছি। এখানে অন্য কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।’
কারখানার সামনের দোকানিরা জানান, হঠাৎ বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেল দেখে নিরাপত্তার স্বার্থে তারা দোকান বন্ধ করে দেন।
স্থানীয়দের দাবি, অতীতেও কারখানাটির ঝুট ব্যবসা নিয়ে একাধিকবার বিরোধের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে গাজীপুর মহানগর বিএনপির দুটি প্রভাবশালী পক্ষের মধ্যে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিযোগিতা রয়েছে বলেও স্থানীয়দের দাবি। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন বলেছেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। মোটরসাইকেল শোডাউনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার মতো কোনো ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, মোটরসাইকেল মহড়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।




