রাজশাহী
শিশুমৃত্যুর পর ভুয়া চিকিৎসক শনাক্ত

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ধরা পড়ে ভূয়া চিকিৎসক। ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহীর বাগমারায় আড়াই বছরের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ধরা পড়েছে এক ভুয়া চিকিৎসক। তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তার পরিচালিত হাসপাতালের কোনো বৈধ অনুমোদন নেই বলেও মিলেছে প্রমাণ।
রবিবার (২৯ জুন) রাত সোয়া ৮টার দিকে সাফল্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালে পরিচালনা করা হয় এ অভিযান।
দণ্ডপ্রাপ্ত আলমগীর কবির ওই হাসপাতালের পরিচালক। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, কোনো নিবন্ধিত চিকিৎসক নন তিনি। পেশায় স্থানীয় মজোপাড়া মহিলা কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক। তবে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটি পরিচালনার পাশাপাশি নিজেই দেখতেন রোগী এবং লিখে দিতেন ব্যবস্থাপত্র। হাসপাতালের সাইনবোর্ডে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নাম থাকলেও বাস্তবে রোগীদের চিকিৎসা করতেন তিনি নিজেই।
নিহত শিশু হাবিবা খাতুন খালিশপুর গ্রামের হারুনুর রশিদের মেয়ে। মায়ের সঙ্গে নানাবাড়ি ধামিনকৌড় গ্রামে থাকার সময়, গত শুক্রবার জ্বর ও পেটব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। তাকে হাটগাঙ্গোপাড়া এলাকার সাফল্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালে নিয়ে যায় পরিবারের সদস্যরা। সেখানে শিশুটির জন্য ছয়টি সিরাপ ও তিনটি ইনজেকশনের ব্যবস্থাপত্র দেন আলমগীর কবির। পরিবারের দাবি, ওই চিকিৎসা শুরুর পরই হাবিবার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।
শিশুটির মৃত্যুর পর ভুল চিকিৎসার অভিযোগ ওঠায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঞার নেতৃত্বে স্বাস্থ্য বিভাগের একজন চিকিৎসককে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালটিতে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বৈধ অনুমোদনের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। পরে জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীর কবির অভিযোগ স্বীকার করলে তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে তাকে নেওয়া হয় বাগমারা থানায়।
হাবিবার স্বজনদের দাবি, ভুল চিকিৎসার কারণেই মৃত্যু হয়েছে শিশুটির। আলমগীর কবিরের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী চিকিৎসা শুরুর পরই শিশুটির অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
তবে অভিযানের আগে আলমগীর কবির গণমাধ্যমকে দাবি করেন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই শিশুটির চিকিৎসা দিয়েছেন তিনি। অন্য কোনো কারণেও শিশুটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাবিবার এক স্বজন মন্তব্য করেন, ‘শনিবার লাশ দাফন করেছি। আর ঝামেলা করতে চাই না। তবে এই ভুয়া চিকিৎসা বন্ধ হোক, যাতে আর কোনো পরিবারকে এমন কষ্ট পেতে না হয়।’
স্থানীয়দের দাবি, প্রথম অভিযোগ নয় এটি। ২০২২ সালেও একই প্রতিষ্ঠানে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে মজোপাড়া গ্রামের মোজাম্মেল হকের এক শিশুপুত্রের মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে। ওই ঘটনার পর কিছুদিন হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পরে আবার চালু করা হয়।




