‘থ্রি জিরো’র শূন্যে আমাদের শূন্য জীবন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
ড. মুহাম্মদ ইউনূস,
আপনার ‘থ্রি জিরো’ তত্ত্বের অন্যতম স্তম্ভ ছিল ‘শূন্য দারিদ্র্য’। আপনি বিদায় নিয়েছেন, আপনার ১৮ মাসের সেই ক্যাবিনেটও এখন অতীত। তবে আপনার সেই তত্ত্ব পরম দার্শনিক সত্য রূপে দেশের সাধারণ মানুষের পকেটকে সত্যিই ‘শূন্য’ করে গেছে।
সংস্কারের মন্ত্র দিয়ে আপনারা ক্ষমতায় এসেছিলেন। কিন্তু আপনার বয়োবৃদ্ধ উপদেষ্টারা দেশের জরাজীর্ণ স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের চেয়ে নিজেদের স্বাস্থ্য সংস্কারকেই বেশি অগ্রাধিকার দিলেন। আ ফ ম খালিদ হোসেনরা যখন সরকারি কোষাগারের ৮০ লাখ টাকা খরচ করে ব্যাংকক বা সিঙ্গাপুরের আধুনিক হাসপাতালে জীবন স্থায়ী করার উপায় খুঁজছিলেন, তখন এই দেশের ৬১ লাখ মানুষ স্রেফ চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে তলিয়ে গেছে।
আপনার উপদেষ্টারা দেশের চিকিৎসকদের ওপর আস্থা রাখতে পারেননি। অথচ এ দেশের ৭৩ শতাংশ মানুষকে নিজের পকেট কেটে, ঘটিবাটি বেচে, কিংবা চড়া সুদে ধার করে দেশের ভাঙাচোরা হাসপাতালেই মরতে হয়। আপনাদের অর্থ উপদেষ্টা যখন নিজের চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে তিনবার উড়াল দিচ্ছিলেন, তখন তিনিই দেশের মোট স্বাস্থ্য বাজেটে এক কৌতুকময় ভগ্নাংশ বরাদ্দ দিচ্ছিলেন। নিজের জীবনের মূল্য যেখানে কোটি টাকা, দেশের মানুষের জীবনের মূল্য সেখানে শুধুই বাজেটের ওই কয়েকটা শূন্যের মারপ্যাঁচ।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মানেই এ দেশে এখন এক চরম বিপর্যয়। ওষুধ, সার্জারি আর রোগনির্ণয়ের খরচে মানুষ আজ বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুকে সস্তা মনে করে। আপনার উপদেষ্টাদের মতে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে নাকি দেশে ভালো হাসপাতাল বানানো যায় না। অথচ কী আশ্চর্য, সেই একই আমলাতন্ত্র আপনাদের লাখ লাখ টাকার বিদেশ ভ্রমণের বিল-ভাউচার মুহূর্তেই অনুমোদন করে দেয়!
আপনারা তো এখন আর ক্ষমতায় নেই। আপনাদের শর্ট ইনিংস’ শেষ। কিন্তু আপনাদের রেখে যাওয়া এই দীর্ঘ চিকিৎসা বিলের বোঝা আজ আমাদের বইতে হচ্ছে। আপনি তো দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠাতে চেয়েছিলেন, অথচ দেশের চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে ‘মেডিকেল পোভার্টি’র জাদুঘরে বন্দি হচ্ছেন মানুষ। আপনার সরকারের অবহেলায় হামে ৭১২ শিশু মারা গেল।
থাইল্যান্ড-সিঙ্গাপুরের হাওয়ায় আপনাদের জীবন দীর্ঘ হোক। আর আমাদের চিকিৎসা মেশিনের পাইপ বেয়ে ফোঁটা ফোঁটা রক্তের সঙ্গে ঝরে পড়ুক আপনাদের সেই সুন্দর ‘থ্রি জিরো’র শূন্য স্বপ্ন।
ইতি
এক কিডনি ডায়ালাইসিস রোগী




