ইরানে আরও বড় হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের
- যুক্তরাষ্ট্রে পাস হলো বিশাল সামরিক ব্যয় বিল, কাছে টানা হচ্ছে ইসরায়েলকে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বড় ধরনের সামরিক হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ইরানের বিরুদ্ধে একটি ব্যাপক সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার খুব কাছাকাছি রয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি একটি ব্যাপক হামলার কথা বিবেচনা করছি। আগের যেকোনো সময়ের চেয়েও বড় হামলা। সিদ্ধান্ত নেওয়ার খুব কাছাকাছি আছি। এর জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।’
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হলে ইসরায়েল দ্রুত তাতে যোগ দিতে পারবে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্দেশ দিলে ইসরায়েল ‘দুই মিনিটের মধ্যেই’ অভিযানে অংশ নেবে। তবে এ ধরনের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো দেশের সহযোগিতার প্রয়োজন হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে হামলা কখন বা কীভাবে পরিচালিত হতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি জানাননি ট্রাম্প।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ১ লাখ ১৫ হাজার কোটি ডলারের সামরিক ব্যয়-সংক্রান্ত বিল পাস হয়েছে, যাতে ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রস্তাব রয়েছে। দেশটির কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ২১৬ ভোটে বিলটির পক্ষে এবং ২১২ ভোটে বিপক্ষে রায় দিয়ে এ সামরিক ব্যয় বিল পাস হয়েছে। ছয়জন ডেমোক্র্যাট সদস্য বিলটির পক্ষে এবং সাতজন রিপাবলিকান সদস্য এর বিপক্ষে ভোট দেন। এখন সিনেটে বিবেচনার জন্য যাবে বিলটি। গত বছর এই ব্যয় ছিল ৯০ হাজার কোটি ডলার।
ট্রাম্পের প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা ব্যয়ের প্রতিফলন হিসেবে বিলটি তৈরি করা হয়েছে। তার দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে অতিরিক্ত এই ব্যয় প্রয়োজন।
বিলে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা।
সামাজিক কর্মসূচিতে ব্যয় কমানোর উদ্যোগের মধ্যে এত বড় সামরিক ব্যয় নিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটদের আপত্তি। সিনেটে বিলটিকে ইরানের বিরুদ্ধে সরকারের যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ‘অনুমতিপত্র’ বলে মন্তব্য করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার।
এ ছাড়া বিলে রয়েছে ইউক্রেনের জন্য সহায়তা এবং ভোট গ্রহণে নতুন বিধিনিষেধ আরোপসংক্রান্ত বিতর্কিত কয়েকটি প্রস্তাবও। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে ভোট জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব হবে। তবে সমালোচকদের মতে, এ দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।




