বিয়ের স্বপ্নে রচিত হলো মৃত্যুর গল্প
- স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে একসঙ্গে বসবাস
- বিয়ের চাপেই শ্বাসরোধে হত্যা
- প্রেমিকের আদালতে স্বীকারোক্তি

হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাককে (২৫) গ্রেপ্তার করে পিবিআই। ছবি: সংগৃহীত
ছিলো প্রেম-ভালোবাসা। ছিলো একসঙ্গে নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্নও। সেই স্বপ্নের টানে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে ভাড়া বাসায় ওঠেন গার্মেন্টসকর্মী সাদিয়া আক্তার। কিন্তু যে মানুষটিকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বিশ্বাস করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত তার হাতেই নিভে যায় সাদিয়ার জীবন প্রদীপ। বিয়ের জন্য চাপ দেওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয় তর্ক, কথাকাটাকাটি এরপর গলা চেপে হত্যা। হত্যার পর মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত প্রেমিক। তবে বেশিদিন পালিয়ে থাকতে পারেননি তিনি। মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, ১৩ জুলাই সোমবার রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় সাদিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমদিকেই ঘটনাটি পারিবারিক কলহের জেরে সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই রিয়াজ বাদি হয়ে দুই দিন পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এতে নিহতের স্বামী ইব্রাহিম ও তার বাবা মহিউদ্দিন এবং মা তাসলিমাসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তভার নেয় পিবিআই।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাদিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় ইব্রাহিমের। কিন্তু পারিবারিক কলহে সেই সম্পর্কে ভাটা পড়ে। আর সেই সুযোগে আব্দুর রাজ্জাক নামে এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে সাদিয়ার। এরপর নতুন জীবনের স্বপ্নে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেন তারা।
বৃহস্পতিবার রাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. রিয়াজ উদ্দিন রনি জানাচ্ছিলেন, তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার ঢাকার কোনাপাড়া থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২১ জুলাই মঙ্গলবার ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাককে (২৫) গ্রেপ্তার করে পিবিআই।
জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন আব্দুর রাজ্জাক। পরদিন ২২ জুলাই বুধবার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।
পিবিআইর তদন্ত ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দি থেকে জানা যায়, সাদিয়া আক্তারের সঙ্গে আব্দুর রাজ্জাকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ১ জুলাই থেকে তারা সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকায় স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে শুরু করেন একটি ভাড়া বাসায় বসবাস।
ঘটনার দিন ১২ জুলাই সাদিয়া বিয়ের জন্য চাপ দিলে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সাদিয়ার গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন আব্দুর রাজ্জাক। এরপর মরদেহ ভাড়া বাসাতেই ফেলে রেখে চলে যান আত্মগোপনে।
পিবিআই জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।




