আবেদন হারিয়েছে কমনওয়েলথ গেমস

ইমরানুর রহমান
১৯৩০ সালে পথচলা শুরু ফুটবল বিশ্বকাপের। একই বছর মাঠে গড়ায় কমনওয়েলথ গেমসের প্রথম আসর। ৯৬ বছর পর সাফল্যের শিখর ছুঁয়েছে বিশ্বকাপ। আর উল্টো রথে কমনওয়েলথ গেমস। এতটাই যে গতকাল বৃহস্পতিবার গ্লাসগোয় শুরু হওয়া এই আসরের আয়োজক পাওয়া নিয়েই একটা সময় তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা।
২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজক ছিল অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্য। অতিরিক্ত খরচের অজুহাতে ২০২৩ সালে সরে দাঁড়ায় তারা। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা অনিশ্চয়তার পর দ্বিতীয়বারের মতো এই গেমসের দায়িত্ব নেয় গ্লাসগো। এর আগে ২০১৪ সালে এই শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল কমনওয়েলথ গেমস। সেই গ্লাসগোতেই এবার গেমসের আকার অনেক ছোট করে আনা হয়েছে।
এবার অ্যাথলেট গত আসরের তুলনায় কমেছে প্রায় দুই হাজার জন। কোনো নতুন স্টেডিয়ামও তৈরি করা হয়নি। অ্যাথলেটিকস ইভেন্টগুলো ৪৬ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার হ্যাম্পডেন পার্ক থেকে সরিয়ে মাত্র ১০ হাজার আসনের স্কটস্টোন স্টেডিয়ামে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এক সময়ের জমজমাট এই আসর এখন কাটছাঁট আর সংক্ষিপ্ত রূপে হাজির হচ্ছে।
তাই প্রশ্ন উঠেছে, কমনওয়েলথ গেমসের এটাই শেষ অধ্যায় নাকি নতুন রূপান্তর? অ্যাথলেট ও ক্রীড়াপ্রেমীরা কি এখনো এই আয়োজন নিয়ে আগ্রহী? এর ভবিষ্যৎই বা কী? ২০১৮ সালের গোল্ড কোস্ট আর ২০২২ সালের বার্মিংহাম গেমসের বাজেট যেখানে ছিল ৭০০ থেকে ৮০০ মিলিয়ন পাউন্ড, সেখানে গ্লাসগো গেমসের খরচ কমিয়ে আনা হয়েছে মাত্র ১৬০ মিলিয়ন পাউন্ডে।
বাংলাদেশ কমনওয়েলথ গেমসে পদক জিতেছে ৮টি, এর সবগুলো শুটিংয়ে। সেই শুটিং নেই এবারের আসরে। নেই বাংলাদেশের সম্ভাবনার আর্চারিও। শুধু তাই নয়, ২০১৪ সালে যেখানে ছিল ১৮টি খেলা, অথচ এবার হবে মাত্র ১০টি! তাই পদকের আশা নেই বললেই চলে বাংলাদেশের। তারপরও ১৫ জন খেলোয়াড়ের সঙ্গে কোচ, কর্মকর্তা মিলিয়ে বাংলাদেশের বহর ৩৫ জনের। ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ইমরানুর রহমানের টাইমিংয়ের উন্নতি কিংবা বক্সিংয়ে জিনাত ফেরদৌস, সাঁতারে সামিউল ইসলাম-সোনিয়া আক্তাররা যেন ভালো খেলেন, চাওয়া এতটুকুই। অথচ গেমসের প্রশিক্ষণ আর অংশগ্রহণে খরচ প্রায় ৪ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ সেরা তারকাদের পাঠালেও সময়ের সেরা অ্যাথলেটদের অনেকেই আসেননি কমনওয়েলথ গেমসে। যুক্তরাজ্যের ইতিহাসের দ্রুততম নারী অ্যাথলেট দিনা অ্যাশার-স্মিথ এবং সেন্ট লুসিয়ার অলিম্পিক ১০০ মিটার চ্যাম্পিয়ন জুলিয়েন আলফ্রেড নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। কানাডিয়ান সাঁতার তারকা সামার ম্যাকইনটশও গ্লাসগোতে থাকছেন না। এর মধ্যেও আয়োজকদের দাবি, এমন পরিস্থিতি ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন পথ তৈরি করে দিয়েছে। তাদের বিশ্বাস, অপেক্ষাকৃত ছোট, কম খরচের এবং টেকসই একটি কমনওয়েলথ গেমস দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
কমনওয়েলথ স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী কেটি স্যাডলেয়ার বলেছেন, ‘আমরা নিজেদের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করেছি এবং বুঝতে পেরেছি যে একে ঢেলে সাজাতে হবে, যাতে এটি আমাদের সদস্য দেশগুলোর কাছে একটি আকর্ষণীয় প্রস্তাব হয়ে ওঠে।’ কমনওয়েলথ গেমস কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে ২০৩০ সালের আয়োজক হিসেবে ভারতের আহমেদাবাদকে নিশ্চিত করেছে। সেখানে ইভেন্ট সংখ্যা আবার বাড়িয়ে ১৫ থেকে ১৮টি করা হতে পারে। এ ছাড়া ২০৩৪ সালে আয়োজক হতে আগ্রহ দেখিয়েছে নিউজিল্যান্ড ও নাইজেরিয়া, যা স্বস্তির আয়োজকদের জন্য।




