আয়কর আইনের ১৪৭ ধারা উদ্বিগ্ন শীর্ষ আট বাণিজ্য সংগঠন

সংগৃহীত ছবি
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব বোর্ড কর্মকর্তাদের সরেজমিন পরিদর্শন ও হিসাব যাচাইয়ের সিদ্ধান্তে দেশের ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত বলে মনে করে দেশের শীর্ষ ৮টি বাণিজ্য সংগঠন। এই ভীতি দূর করতে সিদ্ধান্ত স্থগিত বা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনগুলো।
২২ জুলাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যানকে দেওয়া এক যৌথ চিঠিতে ব্যবসায়ী নেতারা এই দাবি জানান। আবেদনের অনুলিপি অবগতির জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।
ব্যবসায়ী সমাজ সবসময় একটি স্বচ্ছ ও ন্যায্য কর ব্যবস্থাকে সমর্থন করে উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, কর আদায়ের নামে ভীতি সৃষ্টি না করে করদাতা ও কর কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি পারস্পরিক সহযোগিতামূলক পরিবেশ বিদ্যমান থাকা আবশ্যক। পাশাপাশি ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির একটি যৌক্তিক ও ব্যবসাবান্ধব সমাধানের আহ্বান জানান।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি নির্মাণ এবং ১ কোটি লোকের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য পূরণ করতে হলে স্তব্ধ অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে হবে। এর জন্য সরকার ও ব্যবসায়ী সমাজকে পরস্পরকে আস্থায় নিয়ে একসাথে কাজ করতে হবে।
আবেদনে স্বাক্ষরকারী আটজন শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা হলেন, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ), বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিসিএমইএর সভাপতি মইনুল ইসলাম, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকিন আহমেদ, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কামরান টি. রহমান, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক এবং ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান।
১৯ জুলাই এনবিআর থেকে এই বিধান প্রয়োগ সংক্রান্ত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারার মূল বিষয়টি হলো এনবিআর কর্মকর্তাদের ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে সরাসরি গিয়ে পরিদর্শন করা এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও হিসাবসংক্রান্ত ডকুমেন্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার বিশেষ ক্ষমতা প্রদান।
সহজ কথায়, এই ধারার আওতায় এনবিআর কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নোটিশ দেওয়া বা না দেওয়ার ভিত্তিতে যেকোনো ব্যবসা বা শিল্প প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তাদের খাতা-পত্র, ফাইন্যানশিয়াল রেকর্ডস ও অন্যান্য হিসাব যাচাই করতে পারবেন।




