ভাতাসহ কত বেতন পাবেন অ্যাপলের নতুন সিইও

অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জন টার্নাস। ছবি : রয়টার্স
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জন টার্নাসের পারিশ্রমিকের তথ্য প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
অ্যাপলের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৭ অর্থবছরে টার্নাসের লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক মোট পারিশ্রমিক হাতে যাচ্ছে ৫৮ মিলিয়ন বা ৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এর মধ্যে থাকছে ৩০ লাখ ডলার বার্ষিক বেতন এবং ২০২৭ সালে ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের শেয়ারভিত্তিক পুরস্কার।
এই শেয়ার পুরস্কারের ৭৫ শতাংশ হবে কর্মদক্ষতাভিত্তিক। অর্থাৎ অ্যাপলের শেয়ার পারফরম্যান্স এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কেমন করছে, তার ওপর এর বড় অংশ নির্ভর করবে।
বাকি ২৫ শতাংশ হবে সময়ভিত্তিক সীমিত শেয়ার ইউনিট। চার বছর ধরে প্রতি ছয় মাসে নির্দিষ্ট অংশ করে এসব শেয়ার দেওয়া হবে। এ ছাড়া ২০২৬ অর্থবছরে সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ের জন্য টার্নাসকে প্রায় ২৫ লাখ ডলার মূল্যের প্রোরেটেড শেয়ার ইউনিট দেওয়া হচ্ছে।
জন টার্নাস সাবেক সিইও টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। এর মাধ্যমে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে টিম কুকের ১৫ বছরের অধ্যায়ের ইতি ঘটল। গত ৩১ আগস্ট ছিল অ্যাপলের সিইও হিসেবে তার শেষ কর্মদিবস। এর আগে ২০১১ সালে স্টিভ জবসের কাছ থেকে সিইওর দায়িত্ব নিয়েছিলেন টিম কুক।
সিইও পদ ছাড়লেও অ্যাপল থেকে বিদায় নিচ্ছেন না টিম। তিনি এখন প্রতিষ্ঠানটির এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নতুন পদে কুকের বার্ষিক মূল বেতন হবে ২০ লাখ ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সিইও থাকাকালে তার মূল বেতন ছিল ৩০ লাখ ডলার বা প্রায় ৩৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ মূল বেতন কমেছে প্রায় ১২ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
এর পাশাপাশি ২০২৭ অর্থবছরে কুক পাবেন প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার মূল্যের শেয়ার পুরস্কার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৫২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তার লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক পারিশ্রমিক দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা প্রায় ৫৭৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
২০২৫ সালে সিইও হিসেবে কুকের মোট পারিশ্রমিক ছিল প্রায় ৭ কোটি ৪৩ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ছিল ৩০ লাখ ডলার বা প্রায় ৩৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বেতন, ১ কোটি ২০ লাখ ডলার বা প্রায় ১৪৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা কর্মদক্ষতাভিত্তিক নগদ পুরস্কার এবং প্রায় ৫ কোটি ৭৫ লাখ ডলার বা ৭০৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার।
নতুন দায়িত্বে তার লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক প্যাকেজ ৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অর্থাৎ ২০২৫ সালের মোট পারিশ্রমিকের তুলনায় ব্যবধান প্রায় ২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। তবে দুই বছরের পারিশ্রমিক কাঠামো পুরোপুরি এক নয়। তাই এটিকে সরাসরি বেতন কমার হিসাব হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
এর মূল কারণ কুক ও টার্নাসের দায়িত্বের পরিবর্তন। টার্নাস এখন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে পুরো প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার দায়িত্বে। অন্যদিকে কুক এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে কৌশলগত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
কুকের নতুন শেয়ার পুরস্কারের ৫০ শতাংশ কর্মদক্ষতাভিত্তিক এবং বাকি ৫০ শতাংশ সময়ভিত্তিক। এই শেয়ারগুলোও চার বছর ধরে ধাপে ধাপে দেওয়া হবে।
সূত্র : ইয়াহু ফাইন্যান্স






