ইরানে পরমাণু বোমা হামলার চিন্তা নেই ট্রাম্পের, পাঠাবেন না স্থলসেনাও

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে পরমাণবিক বোমা হামলার পরিকল্পনা নেই তার। পাশাপাশি দেশটিতে স্থল অভিযানের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান ট্রাম্প।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, রাশিয়া, চীন ও ইরানের মধ্যে কোনো গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান হচ্ছে না। এখন ট্রাম্প বলছেন, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে আলোচনা করছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার জানা যায়, ইরানের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় সেই বিকল্পগুলো বিবেচনা করছেন ট্রাম্প। জানা যায়, ‘ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট’ (এমওএবি) নামে পরিচিত বোমা ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
এটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে থাকা সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা। এ বোমার ওজন প্রায় ২১ হাজার পাউন্ড (৯ দশমিক ৪ টন)। সর্বশেষ ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে এটি ব্যবহার করা হয়েছিল।
গতকাল সূত্রের বরাতে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন জানায়, ইরানে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এ পরিকল্পনায় উঠে এসেছে এমওএবি বোমার নাম। এ বোমাকে ‘মাদার অব অল বম্বসও’ বলা হয়।
তবে শক্তিশালী এ বোমা ট্রাম্পের ঘোষিত কৌশলগত লক্ষ্যগুলোর কোনোটি অর্জন কিংবা যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বদলাতে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এদিকে পুরো সপ্তাহ জুড়েই ইরানে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ভবিষ্যতমুখী ভাষা ব্যবহার করছেন ট্রাম্প। তাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালাবেন না বলে জানালেও এটি স্পষ্ট যে, তিনি বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছেন এবং সব ধরনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন।
ইরানের সঙ্গে চলমান এ যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয়।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের কাছ থেকে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন রিপাবলিকানরা। ছয় মাসের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা চলার পরও দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কাছাকাছি পৌঁছেছে, এমন ইঙ্গিত খুব কমই দেখা যাচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা



