যৌন নিপীড়ন মামলায় ট্রাম্পের আপিল আবেদন খারিজ

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ই. জিন ক্যারল। ছবি: সংগৃহীত
লেখক, গবেষক ও টিভি উপস্থাপক ই. জিন ক্যারলের দায়ের করা যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপিল আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জুরির রায় বাতিলের জন্য ট্রাম্পের করা এ আবেদন সোমবার (১৭ আগস্ট) খারিজ করে আদালত।
নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি নিউইয়র্ক শহরের একটি বিলাসবহুল বিপণিবিতানে ই. জিন ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন এবং পরে মানহানি করার অভিযোগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০২৩ সালে এ মামলার বিচারে ট্রাম্পকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানির দায়ে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন জুরি। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়মুক্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তার আপিল গ্রহণ করা হোক। তবে আদালত ট্রাম্পের ওই আবেদনসহ আরও কয়েকটি আবেদন খারিজ করে দেন।
এদিকে ক্যারলের করা আরেকটি মানহানির মামলায় ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণের রায় বাতিলের আবেদনও করেছেন ট্রাম্প ও বিচার বিভাগ। ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ক্যারল সম্পর্কে ট্রাম্পের করা মন্তব্যের জন্য তার বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়মুক্তি পাওয়ার কথা দাবি করেছেন তারা। তবে ওই আপিলের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
ক্যারল দীর্ঘদিনের কলাম লেখক ও সাবেক টেলিভিশন উপস্থাপিকা। ২০২৩ সালের বিচারে তিনি সাক্ষ্য দেন, নব্বইয়ের দশকে ম্যানহাটনে ট্রাম্প টাওয়ারের বিপরীতে অবস্থিত বিলাসবহুল বিপণিবিতান ‘বার্গডর্ফ গুডম্যান’-এর পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে ট্রাম্পের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ একটি সাক্ষাতের একপর্যায়ে যৌন নিপীড়নের শিকার হন।
ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা কাপলান সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এর ফলে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ই. জিন ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন ও পরবর্তীতে মানহানি করেছেন, জুরিদের সেই সর্বসম্মত রায় এখন চূড়ান্ত এবং কোনো আদালতেই তা আর চ্যালেঞ্জ করা যাবে না।’
তবে শুরু থেকেই ক্যারলের আনা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন ট্রাম্প। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আদালতের এই রায় রাজনৈতিকভাবে দলটির জন্য বড় চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।







