ক্ষুব্ধ হয়ে বললেন ট্রাম্প
আমাকে নোবেল না দেওয়া নরওয়ের ‘অমোচনীয় কলঙ্ক’

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শান্তিতে নোবেল বিজয়ী না হওয়ায় ব্যাপক ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুরস্কার না পাওয়ায় নিজের অসন্তোষের কথা গত শুক্রবার আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। তাকে বিজয়ী না করার সিদ্ধান্তকে ‘লজ্জাজনক ও বিব্রতকর’ বলে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প। বলেছেন, এটি নোবেল কমিটির আয়োজক দেশ নরওয়ের গায়ে থাকবে একটি কলঙ্ক হয়ে। বিবিসির গতকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নাভি পিল্লাইয়ের নাম প্রকাশের পর ট্রাম্প মন্তব্য করেন, তিনি আগে এ ‘রহস্যময় ব্যক্তি’র নাম শোনেননি।
নোবেল পুরস্কার জয়ের আকাঙ্ক্ষা ট্রাম্প বরাবরই স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে আসছেন। গত বছর ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদোকে যখন এই পুরস্কার দেওয়া হয়, তখনো তিনি অনুরূপ সমালোচনা করেছিলেন। তবে গত বছর নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহার স্টোর ট্রাম্পকে বুঝিয়ে বলেছিলেন, পুরস্কারটি কে পাবেন, তা নরওয়ের সরকার নয়, বরং নরওয়েভিত্তিক একটি স্বাধীন কমিটিই নির্ধারণ করে থাকে। নিউ ইয়র্কের সিরাকিউসে গত শুক্রবার আয়োজিত এক জনসভায় সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট পুনরায় দাবি করেছেন, তিনি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন। আরও দুটি যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে বা জয়লাভ করতে চলেছেন, যদিও তিনি এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। তিনি বলেছেন, ‘গণতন্ত্রবিরোধী এবং প্রকৃতপক্ষে সভ্যতার শত্রু— এমন গুটিকয়েক উগ্রমতাদর্শীর কারণে নোবেল শান্তি পুরস্কার চিরতরে তার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।’ ট্রাম্প আরও বলেছেন, ‘এটি নরওয়ে এবং যারা এমন এক লজ্জাজনক ও বিব্রতকর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের জন্য এক অমোচনীয় কলঙ্ক।’
গত শুক্রবার শান্তিতে নোবেল পান আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রাক্তন বিচারক নাভি পিল্লাই। তিনি জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনের তদারকি করেছিলেন, যেটিতে ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। নোবেল কমিটি জানিয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সাবেক প্রধান ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের বিচারক পিল্লাইকে ‘শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রসারে তার প্রচেষ্টার’ জন্য স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তার এ প্রচেষ্টা প্রশস্ত করেছিল ‘আরও সামগ্রিক বৈশ্বিক আইনি ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার পথ। পুরস্কার ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই, নুরেমবার্গের ‘প্যালেস অব জাস্টিস’ থেকে প্রতিক্রিয়ায় ৮৫ বছর বয়সী এই নারী বলেছেন, ‘এটি নিশ্চয়ই কোনো কৌতুক।’ করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানাতে সমবেত মানুষের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। রসিকতা করে একপর্যায়ে পিল্লাই বলেছেন, ‘আপনারা যদি আরেকটু বেশি হাততালি দেন, তবে হয়তো ট্রাম্পের সঙ্গে এই পুরস্কার ভাগ করে নেব।’



