ইরান যুদ্ধের জন্য রেকর্ড পরিমাণ অর্থ চায় পেন্টাগন

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের জন্য ২০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ বরাদ্দ চেয়ে কংগ্রেসে আবেদন করার অনুমোদন দিতে হোয়াইট হাউসের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বলে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন পোস্ট ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রস্তাব কংগ্রেসের যেসব সদস্য যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন তাদের পক্ষ থেকে প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউস এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
যুদ্ধ আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত
এই ২০০ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব গত মাসের শেষ দিকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র আওতায় ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার ব্যয়ের তুলনায় অনেক বেশি হবে বলে তিনটি সূত্র জানিয়েছে। তারা বলেছে, এই অর্থ মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাজার হাজার হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে ব্যবহৃত হবে।
ওয়াশিংটন-তেল আবিবের যৌথ সামরিক অভিযান এখন তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। ফলে এই বিপুল অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরও তীব্র বা দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিতে পারে।
যুদ্ধের ব্যয় কত?
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১১.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।
সংস্থাটি জানায়, এই ব্যয়ের বড় অংশ এসেছে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের উচ্চমূল্যের কারণে—প্রতিটির দাম প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন ডলার। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৪০০টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
তুলনামূলক ব্যয়
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের এই সম্ভাব্য ২০০ বিলিয়ন ডলারের অনুরোধ ২০২৩ সালে শুরু হওয়া ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ এবং ২০২২ সালে শুরু হওয়া ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ—এই দুই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয়ের চেয়েও বেশি।
কিল ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৪ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে দ্বিপাক্ষিকভাবে মোট ১৩১.৪৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে।
এছাড়া কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সরাসরি সামরিক সহায়তা হিসেবে ১৬.৩ বিলিয়ন ডলার অনুমোদন করেছে।

