হোর্হে সাম্পাওলি
মেসি জানে কোন পজিশন থাকতে হবে

সবার নিশ্চয়ই মনে আছে,আর্জেন্টিনার কোচ হোর্হে সাম্পাওলির কথা। পাগলাটে চরিত্রের কারণে তিনি বেশি চর্চিত হয়েছিলেন ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে। সমালোচিতও হয়েছিলেন। তার সহকারি ছিলেন লিওনেল স্কালোনি যিনি চার বছর বাদে কাতার বিশ্বকাপ উপহার দিয়েছেন আর্জেন্টিনাকে। তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে সাম্পাওলি বলছেন, ‘সে বুঝেতে পেরেছিল যে, খেলোয়াড়দের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যেই সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়। সবার সঙ্গে মিশতে পারতো সে। তাছাড়া ফুটবলের প্রতিও তার দারুন আগ্রহ।’
গুরুকে ছাড়িয়ে যাওয়া স্কালোনি এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা ট্যাকটিশিয়ান। তিনি এবার যে বিশ্বকাপ দল বাছাই করেছে তা নিয়ে সাম্পাওলির মন্তব্য, ‘সে ভালো দল বাছাই করেছে। আর্জেন্টিনায় অনেক ভালো ফুটবলার আছে। কোচের পছন্দ এবং দল কীভাবে খেলবে, তার সঙ্গে কারা মানিয়ে নিতে পারবে সেটার ওপর ভিত্তি করেই দল গঠন করেছে।’
২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে সাম্পাওলির অধীনে খুব বাজে শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। কোনো রকমে প্রথম রাউন্ড উতরে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই তাদের বিদায় নিতে হয়েছে ফ্রান্সের কাছে হেরে। তার দলেও লিওনেল মেসি ছিলেন কিন্তু এই রত্নকে ঠিকঠাক ব্যবহারই করতে পারেননি এই কোচ। অথচ চার বছর বাদে তার যথার্থ ব্যবহার করে দেখিয়েছেন তারই সহকারি স্কালোনি। মেসিকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনাকে জাগিয়েছেন এবং ৩৬ বছর পর জিতিয়েছেন বিশ্বকাপ।
সেই দেখেই হয়তো হোর্হে সাম্পাওলি এখন নিজেই বুঝতে পারেন তার ভুলটা। সাবেক আর্জেন্টাইন কোচের মতে মেসিকে কোনো কিছু বলে দিতে হয় না, ‘সে (মেসি) একাই খেলে। সে খুব ভালো করে জানে মাঠে তার কোনো পজিশনে থাকা উচিত। বিশ্বের যে কোনো কোচের পক্ষেই তাকে বলে দেওয়া কঠিন যে, তাকে কোথায় দাঁড়াতে হবে।’
তার চোখে মেসি এখনো ভয়ংকর, ‘সে খুব স্বাভাবিকভাবে মাঠের ফাঁকা জায়গাগুলো সবার আগে দেখতে পায়। সে মাঠে হেঁটে বেড়ায়, সেটাই প্রতিপক্ষের জন্য বড় ভয়ের। কারণ ততক্ষণে সে ঠিক করে ফেলে বলটা কোথায় বাড়াতে হবে। সে যখন হাঁটে তখন তাকে আলগা ছেড়ে দেওয়াটা হবে এক মারাত্মক ভুল।’
২০১৮ সালে সাম্পাওলির বড় ভুল ছিল ড্রেসিং সামলাতে না পারা। একটা সময় গিয়ে খেলোয়াড়রাই দল নির্বাচন করতেন। সেটা অস্বীকার করে আর্জেন্টিনার এই সাবেক কোচ বলছেন, ‘আইসল্যান্ডের ম্যাচের পর অনেক কিছু ঘটেছিল। কিছু মতবিরোধও তৈরি হয়েছিল। সেখানে অবিশ্বাস কাজ করছিল। আমরা বুঝতে পারছিলাম না কেন আমরা জিততে পারিনি। ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচেও বাজে খেলেছি। ফ্রান্সের ম্যাচে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিকল্পনা যা আমার নিজের তৈরি এবং সেটি আমার পছন্দও হয়েছিল।’






