গুপ্ত শব্দ প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ : ছাত্রশিবির সভাপতি

সংগৃহীত ছবি
এখন আর ‘গুপ্ত’ শব্দ জনগণ গ্রহণ করছে না। এ মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
নড়াইলে ছাত্রশিবিরের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেছেন, বিভিন্ন সময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে ১৯৭১ সালের প্রসঙ্গ টেনে ধরা হয়, তবে জনগণ এখন এসব আর গ্রহণ করছে না।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে নড়াইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ছাত্রশিবির নড়াইল জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত হয় এই ঈদ পুনর্মিলনী। ‘ভালোবাসার বন্ধনে আমরা অতীত থেকে বর্তমান’ স্লোগানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
এ সময় বক্তব্যে তিনি আরও বলেছেন, ‘আমরা যখন কোনো অন্যায়-অপকর্মের প্রতিবাদ করি, তখন ১৯৭১ সালের প্রসঙ্গ টেনে ধরা হয়, কিন্তু এটা আর জনগণ খায় না।’ তার দাবি, ‘এখন জনগণ আর ১৯৭১ প্রসঙ্গ, রগকাটা অপবাদসহ বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার গ্রহণ করেন না। এসব অপবাদ গ্রহণ না করায় এখন তারা নতুন করে ‘গুপ্ত’ শব্দ চালু করতে চায়, তাও জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছেন।’
শিবির সভাপতি জানিয়েছেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। ‘এর আগে জনগণ ফ্যাসিস্টদের বিতাড়িত করেছে। বিষয়টি মাথায় রেখে নব্য ফ্যাসিস্টদেরও সতর্ক থাকতে হবে।’
সাদ্দামের অভিযোগ, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও ধর্ষণের মতো অপরাধ বেড়েছে দেশে। তিনি দাবি করেছেন, ‘শিশু রামিসাসহ মে মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত ১১৮ জন নারী ও শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষণের পর অনেকে হত্যার শিকার হয়েছে। অথচ অপরাধীদের কোনো বিচার হচ্ছে না, দেদারসে ঘুরে বেড়ায় তারা।’
তিনি আরও বলেছেন, জিয়াউর রহমান দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রপতি হলেও তার আশপাশের লোকজন তাকে হত্যা করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, ‘আপনার আশেপাশেও ষড়যন্ত্রকারীরা আছে, তাদের ব্যাপারেও সতর্ক থাকুন।’
শিক্ষাঙ্গনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। তার ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করে এবং তারা ছাত্রশিবিরকে বেছে নিয়েছে তাদের নীতি ও আদর্শের কারণে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছেন ছাত্রশিবির নড়াইল জেলা শাখার সভাপতি এস এম সালাউদ্দিন এবং সঞ্চালনা করেছেন জেলা সেক্রেটারি তাজ মোহাম্মদ। এতে আরও ছিলেন নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু, যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রসূল, ছাত্রশিবির খুলনা মহানগরের সভাপতি রাকিব হোসেন, অধ্যক্ষ সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ওবায়দুল্লাহ কায়সারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।






