অর্থমন্ত্রী
বিপিসি চট্টগ্রাম থেকে সরবে না

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে চট্টগ্রাম চেম্বার নেতারা
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় সরানো হবে না বলে নিশ্চিত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নবনির্বাচিত চট্টগ্রাম চেম্বার নেতাদের দাবির প্রেক্ষিতে মন্ত্রী এ নিশ্চয়তা দেন।
একইসঙ্গে চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের বড় দারোগারহাটে পণ্য পরিবহনের ওজন স্কেল নিয়ে চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ীদের আর বৈষম্যের শিকার হতে হবে না বলে নিজের অবস্থান জানান অর্থমন্ত্রী।
বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বাণিজ্য সহজীকরণ নিয়ে দেড় ঘণ্টার বৈঠকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। উঠে আসে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় মন্ত্রীর মেহেদিবাগের বাসায় চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হকের নেতৃত্বে চেম্বার নেতারা এ অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন।
গত ২৩ মে চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনে আমিরুল হকের নেতৃত্বে ২৪ জন পরিচালকই জয়ী হন। ২৫ মে তাদের নেতৃত্বে চেম্বারের প্রেসিডিয়াম গঠিত হয়। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরুর সঙ্গে নতুন চেম্বার নেতৃত্বের এটি ছিল প্রথম বৈঠক।
বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে চট্টগ্রাম চেম্বারের ৪৬তম সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেছেন, ‘বৈঠকটি ছিল অনানুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ। একপর্যায়ে আলোচনাটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রূপ নেয় এবং চট্টগ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো উঠে আসে। বিপিসির সদর দপ্তর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় সরানোর সরকারি উদ্যোগের বিষয়টি তিনি তুলে ধরলে মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে জানান, এটি চট্টগ্রামেই থাকবে, ঢাকায় যাবে না।’
আমিরুল হক জানান, চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ীদের বাণিজ্য সহজ করতে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ চালু করা, বিমানবন্দর ট্যারিফ কমিয়ে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, ফ্ল্যাট রেটে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভ্যাট আদায়, চট্টগ্রাম কাস্টমসে আধুনিক ল্যাব স্থাপন, চট্টগ্রাম বন্দরে স্ক্যানার মেশিন স্থাপন, ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানো, ট্রেড লাইসেন্স পাঁচ বছর মেয়াদি করা এবং ডিজিটালাইজেশন— এসব বিষয় আলোচনায় আসে। মন্ত্রী বিষয়গুলো আন্তরিকভাবে শোনেন এবং সমাধানের উপায় খুঁজে দেখেন। কিছু বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিক সমাধানও দেন।
চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কে পণ্য পরিবহনে ওজন স্কেল সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে হস্তক্ষেপ চান চেম্বারের সহ-সভাপতি মশিউল আলম স্বপন। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতাদের আশ্বস্ত করেন যে দ্রুতই সমাধান করা হবে এবং চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের এককভাবে এই ভোগান্তি পোহাতে হবে না।
প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর আহমদ দুইটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মন্ত্রীর নজরে আনেন। একটি হলো— বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি পণ্যের তথ্য যেভাবে উন্মুক্ত থাকে, ঠিক সেভাবেই আমদানি পণ্যের তথ্যও উন্মুক্ত করা হোক। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং বাজারে ভারসাম্য থাকবে, অপ্রয়োজনীয় আমদানিও কমবে।
তিনি আরও বললেন, চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। প্রয়োজন হলে বিদেশি ফ্লাইট চট্টগ্রামে নামার জন্য বিমানবন্দর ট্যারিফ কমানো, শুল্ক-কর ও অন্যান্য চার্জ মওকুফ এবং কার্গো ভিলেজ চালুর জন্য প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে মংলা বন্দর ব্যবহারে যেভাবে ট্যারিফ কমানো হয়েছিল, সেভাবেই উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
অনুষ্ঠানে গাড়ি ব্যবসায়ী সংগঠন বারভিডার সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল হাবিবুর রহমান বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে বাজেটে বিশেষ প্রণোদনা এবং আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানান।
বৈঠকে চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের আহ্বায়ক আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, এশিয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম এবং চট্টগ্রাম চেম্বারের নতুন ২২ জন পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। তবে নতুন সিনিয়র সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন না।







