ইব্রাহিম আজিজি
সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে দেবে না ইরান

সংগৃহীত ছবি
ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনো তৃতীয় দেশের কাছে হস্তান্তর করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি। রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরআইএ নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনো তৃতীয় দেশের কাছে হস্তান্তর করতে চায় না।’
শুক্রবার প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারের বরাতে ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিক করার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো হয়নি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
বিশেষ করে ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ প্রায় এক হাজার পাউন্ড ইউরেনিয়ামকে কেন্দ্র করেই পরবর্তী আলোচনা এগোতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। ইরান একাধিকবার বলেছে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ছাড়বে না তারা। যদিও দেশটি বরাবর দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টাও করছে না তারা।
এদিকে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নীতিগত সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে পাওয়া গেছে খবর। তবে এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সই করবেন কি না, তা এখনো ‘ঠিক হয়নি’। তার ভাষ্য, কয়েকটি ভাষাগত বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলছে আলোচনা।
ভ্যান্স আরও জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর আগে চলতি মাসে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে ‘সরাসরি অভিযান চালিয়ে’ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
বার্তাসংস্থা সিএনএন গত মার্চে জানিয়েছে, ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনা থেকে ইউরেনিয়াম সরিয়ে আনার সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা পর্যালোচনা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা। তাদের মূল্যায়নে বলা হয়, এমন অভিযানে শত শত, এমনকি হাজারো সেনার প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে এতে বড় ধরনের হতাহতের ঝুঁকিও রয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।








