ডোনাল্ড ট্রাম্প
চাইলেই ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে আসতে পারি

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কাছে কেউ যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকেই করা হবে লক্ষ্যবস্তু। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কড়া নজরদারিতে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে থাকা ইউরেনিয়াম।
রবিবার সম্প্রচারিত টেলিভিশন অনুষ্ঠান ফুল মেজারে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্স সার্বক্ষণিক নজর রাখছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ইউরেনিয়াম প্রসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘চাইলে যেকোনো সময় ওগুলো নিয়ে আসতে পারি আমরা। সবকিছু আছে নজরদারিতে। কেউ সেখানে ঢুকলে তার নাম-ঠিকানা পর্যন্ত জানা যাবে। কেউ ওই জায়গার কাছে গেলেই বুঝতে পারব আমরা, প্রয়োজনে চালাব হামলা।’
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম বড় ইস্যু ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইউরেনিয়ামের মজুত দেশের বাইরে সরিয়ে নিক ইরান, বন্ধ ঘোষণা করুক পুরো পারমাণবিক কর্মসূচি। তবে দ্বিমত পোষণ করে স্পষ্ট করেছে তেহরান, নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ করবে না তারা।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করছিলেন, এখন দুর্বল অবস্থায় রয়েছে ইরান। তবে যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়নি।
‘আমরা চাইলে অভিযান চালাতে পারি আরও দুই সপ্তাহ। হামলা করতে চেয়েছিলাম যেসব লক্ষ্যবস্তুতে, সফল হয়েছে তার প্রায় ৭০ শতাংশ। বাকি আছে আরও কিছু লক্ষ্যবস্তু, যেগুলোতে চালানো হতে পারে হামলা।’
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র যে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছিল, সেই ধ্বংসস্তূপের নিচেই মজুত রয়েছে ইউরেনিয়াম। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ইরান।
এদিকে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে প্রভাব। হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা ও সরবরাহ সংকটের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রে।
এর আগে গত মাসে ট্রাম্প দাবি করছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে ইরান। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেই দাবি নাকচ করে দিয়েছিল তেহরান।
গত ১৭ এপ্রিল বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, বড় যন্ত্রপাতি নিয়ে গিয়ে ইউরেনিয়ামের মজুত উদ্ধার করবে যুক্তরাষ্ট্র, তারপর নিয়ে আসবে তা।
এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই জানিয়েছেন, ‘সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমাদের কাছে ইরানের মাটির মতোই পবিত্র। কোনো অবস্থাতেই দেশের বাইরে নেওয়া হবে না এটি।’
ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমানে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় সমৃদ্ধ চার শতাধিক কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে ইরানের কাছে। প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা হলে সেই ইউরেনিয়াম দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সম্ভব।
মূলত ২০১৫ সালে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল ইরান। তাই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে সীমিত রাখে দেশটি এবং এর বিনিময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। ওই চুক্তিটি জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামে পরিচিত। পরে ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে সেই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেন যুক্তরাষ্ট্রকে এবং পুনরায় আরোপ করেন নিষেধাজ্ঞা।
এরপর নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি আরও এগিয়ে নেয় ইরান। যদিও তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না তারা।






