Agamir Somoy E-Paper
শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
পশুপাখির প্রতি শরীফের ভালোবাসা
শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

info@agamirsomoy.com

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় সাক্ষাৎকার

সাক্ষাৎকার

কোটি মানুষ মার্কিন চক্রান্তে পথে নামেনি

সাঈদ জুবেরী
সাঈদ জুবেরী
agamir somoy
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৪
কোটি মানুষ মার্কিন চক্রান্তে পথে নামেনি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান, অভ্যুত্থান-উত্তর রাজনীতি, বামপন্থার ভবিষ্যৎ ও জেন-জি প্রপঞ্চ নিয়ে তিনি আগামীর সময়ের সঙ্গে একান্ত আলাপ করেছেন সম্প্রতি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাঈদ জুবেরী

আগামীর সময়: ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ‘দ্রোহযাত্রা’ কর্মসূচিটি একটি অন্যতম প্রধান টার্নিং পয়েন্ট বা পরিবর্তনের মুহূর্ত হিসেবে দেখা দিয়েছিল, যেখান থেকে ‘এক দফা’র (শেখ হাসিনার পদত্যাগের) ঘোষণাটি স্পষ্ট রাজনৈতিক ভাষ্য পায়। এই দ্রোহযাত্রার পেছনের প্রেক্ষাপটটি যদি একটু বিস্তারিত বলতেন? সম্প্রতি আমরা শুনছি, দ্রোহযাত্রা থেকে এক দফার ঘোষণায় ছাত্রনেতাদের কেউ কেউ নাকি খুব বাজে বা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন?

আনু মুহাম্মদ: শেখ হাসিনার পদত্যাগ বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি সমাজে মোটেও নতুন কোনো বিষয় ছিল না। এটি বিএনপির আন্দোলন ছিল, আবার তারও অনেক আগে থেকে বামপন্থীরাও এ দাবি করে আসছিল যে— শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিক। ২০২৪ সালে এসে ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলনটি দ্রুতই একটি সর্বজনীন ও জনপ্রিয় আন্দোলনে রূপ নেয়। ১৪ ও ১৫ জুলাই শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত বাজে ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করলেন। ১৫ জুলাই থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের অমানবিক হামলা, নিষ্ঠুরতা এবং পরে পুলিশের চরম মারমুখী আচরণ ও বিচারহীন হত্যাকাণ্ডের তাণ্ডব শুরু হলো। ক্ষোভ প্রকাশ করার জন্য মানুষ পথ খুঁজছিল। ছাত্রদের প্রথমে ৮ দফা, পরে ৯ দফা দাবি ছিল। ছাত্রদের ওপর যত অত্যাচার বাড়ছিল, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এলেন। এটি সর্বস্তরের মানুষের একটি গণআন্দোলনে পরিণত হলো।

সরকার যখন কোনোভাবেই দমনে পিছপা হচ্ছিল না, তখন প্রধানত তিনটি সামাজিক-রাজনৈতিক ধারা অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে: ১. ৩০টি সাংস্কৃতিক সংগঠন: যারা কারফিউ ভেঙে রাজপথে ‘গানের মিছিল; করেছিল। ২. বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক: পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, যারা শিক্ষার্থীদের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে খুবই সক্রিয় ও সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন। ৩. গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট: বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম।

এই তিনটি ধারার সঙ্গে আমার সরাসরি যোগাযোগ ছিল। তারা সম্মিলিতভাবে একটি কর্মসূচির পরিকল্পনা করে। প্রথমে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, কর্মসূচির নাম হবে ‘শোকযাত্রা’। কিন্তু তৎকালীন অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি বিচার করে দেখা গেল— এটি শুধু শোক প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি প্রতিরোধের বিষয়। তাই এর নাম রাখা হয় ‘দ্রোহযাত্রা’। আমাকে সেখানে সভাপতিত্ব করতে এবং মূল ঘোষণাটি দিতে বলা হয়। ওইদিন দ্রোহযাত্রায় সারা ঢাকা শহরের সব স্তরের মানুষ ঢলের মতো ভেঙে পড়েছিল, যা আমরা নিজেরাও কল্পনা করিনি। মানুষ একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও আহ্বান চাচ্ছে। আমি আমার বক্তব্যে শেখ হাসিনার পদত্যাগের ঘোষণার পাশাপাশি একটি আহ্বান জানিয়েছিলাম— এখন থেকে আমাদের দেশে কীভাবে ‘গণতান্ত্রিক রূপান্তর’ ঘটবে, তা নিয়ে আলোচনা ও প্রস্তুতি শুরু করতে হবে।

এখন যে প্রশ্নটি করলেন— ছাত্রদের প্রতিক্রিয়া বা টানাপড়েন প্রসঙ্গে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভেতরে বহুধারা ও মতের মানুষ কাজ করছিল। বামপন্থীদের প্রতি কারও ভীতি, বিদ্বেষ বা অন্য কোনো হিসাবনিকাশ থাকা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু আমাদের কাছে তখন প্রধান লক্ষ্য ছিল, স্বৈরাচারী শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করা এবং একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পথ উন্মুক্ত করা। ফলে প্রতিক্রিয়া বা টানাপড়েন ধর্তব্যের মধ্যে ছিল না।

আগামীর সময়: দ্রোহযাত্রায় ঢাকার লিবারেল, মধ্যবিত্ত, বামপন্থী থেকে শুরু করে শ্রমজীবী মানুষ ব্যাপকভাবে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু অভ্যুত্থান-পরবর্তী ক্ষমতায় যে বিন্যাস ঘটল— সেখানে তাদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন কতটা ঘটল?

আনু মুহাম্মদ: ২০২৪-এর এ ঘটনাটি প্রকৃত অর্থেই একটি ‘গণঅভ্যুত্থান’ ছিল। শ্রমজীবী মানুষের অংশগ্রহণ ছিল বিশাল। ১৯৬৯ বা ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে ২০২৪-এর একটি বড় তফাত রয়েছে। ’৬৯-এ শেখ মুজিব বা মওলানা ভাসানীর মতো সর্বজনীন নেতৃত্ব ছিল; ’৯০-এ আট দল, সাত দল ও পাঁচ দলের সুস্পষ্ট রূপরেখা ও পরিচিত নেতৃত্ব ছিল। ’২৪-এর অভ্যুত্থানে কোনো নির্দিষ্ট একক নেতা বা নেতৃত্ব ছিল না।

সে সময় আন্দোলনের আসল আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছিল দেয়ালের গ্রাফিটিগুলোতে। সেগুলোকে আপনি অভ্যুত্থানের ‘ইশতেহার’ বলতে পারেন। সেখানে ছিল শ্রেণিবৈষম্য দূর করার কথা, জাতিগত ও ধর্মীয় বৈষম্য মোছার কথা, লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য অবসানের কথা। কিন্তু সেই অরিজিনাল গ্রাফিতিগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মুছে ফেলা হয়।

অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় আমরা দেখলাম— সামরিক বাহিনীর ভূমিকা এবং ছাত্রদের একাংশ সেখানে যুক্ত হলো। বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অংশ নিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর থেকেই যেখানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া জোরদার হওয়ার কথা, সেখানে আমরা দেখলাম এক ভয়াবহ তাণ্ডব ও ধ্বংসযজ্ঞ। মন্দির, বাড়িঘর, ভাস্কর্য এবং মুক্তিযুদ্ধের নানা চিহ্ন ও ম্যুরালে হামলা চালানো হলো। মুক্তিযুদ্ধের চিহ্ন তো গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম রাজনৈতিক শক্তি হওয়ার কথা— তার ওপর আক্রমণ যারা করে, তারা অভ্যুত্থানের শক্তি হয় কীভাবে?

সরকার গঠনের পর আশা করা হয়েছিল এগুলো থামবে। কিন্তু দেখলাম মাজারে হামলা, বাউল-দরবেশদের ওপর আক্রমণ, নাটকের শো বন্ধ করা, গানের আসরে হামলা এবং মন্দির-গির্জায় হামলা। এমনকি দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর মতো পত্রিকার কার্যালয়ে হামলা চালানো হলো।

এগুলোর পেছনে সুসংগঠিত উগ্রবাদী শক্তি ছিল। ‘তৌহিদী জনতা’ বা বিভিন্ন নাম দিয়ে, ফেসবুক ও সামাজিক মাধ্যমে উসকানি দিয়ে এগুলো ঘটানো হয়েছে। আর অন্তর্বর্তী সরকার এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নীরব ও নিষ্ক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। এ সুযোগে সমাজে মব সন্ত্রাস ছড়িয়ে দেওয়া হলো। সব মিলিয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের যে আকাঙ্ক্ষা গ্রাফিটিতে ছিল, ঠিক তার উল্টো একটি উগ্রবাদী, নিপীড়নবাদী ও বৈষম্যবাদী গোষ্ঠীর দাপট তৈরি হলো। আর এটি সম্ভব হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা এবং শক্ত পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে।

আগামীর সময়: বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বামধারার রাজনীতি কি কোণঠাসা?

আনু মুহাম্মদ: ৫ আগস্টের পর যে উগ্রবাদী, নিপীড়নবাদী ও বৈষম্যবাদী গোষ্ঠীগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, তারা ধর্মের পরিচিতি ব্যবহার করে। এদের মধ্যে জামায়াতসহ নানা ধারা আছে এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তরুণদের একটি অংশ (এনসিপি) এদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের ইতিহাসকে মুছে দেওয়া। এই উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো বাম এবং সেক্যুলারদের তাদের প্রধান শত্রু মনে করছে এবং সামাজিক মাধ্যমে অবিরত অপপ্রচার ও মিথ্যাচার চালিয়ে ‘বাম’ ও ‘সেক্যুলার’ শব্দ দুটিকে গালি হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। সেক্যুলার অবস্থান না থাকলে রাষ্ট্র চরম বৈষম্যমূলক হয়ে পড়ে।

আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করবেন— বাম ও সেক্যুলারদের ওপর এদের এত আক্রোশ থাকার বড় কারণ হলো, ‘জাতীয় স্বার্থ ও ভূরাজনীতি’। বাংলাদেশে ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কিন্তু বামপন্থীরা রাজপথে ধারাবাহিক লড়াই করেছে। জাতীয় কমিটির ব্যানারে তিস্তা, টিপাইমুখ কিংবা রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে যে দীর্ঘ আন্দোলন হয়েছে, তার নেতৃত্বে ছিলেন বামপন্থী ও প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীরা।

অথচ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমরা কী দেখলাম? জনগণের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে, কোনো স্বচ্ছতা না রেখে গোপন চুক্তির মহোৎসব চালানো হলো। স্টারলিংকের সঙ্গে চুক্তি, বোয়িং বিমান কেনার প্রক্রিয়া, এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত, জাপানের সঙ্গে চুক্তি এবং সবশেষে নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে আমেরিকার সঙ্গে বিতর্কিত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করা হলো। অর্থাৎ সাম্রাজ্যবাদ ও বহুজাতিক পুঁজির স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে ডানপন্থী ও ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে একটি বামবিরোধী ঐক্য তৈরি হয়েছে।

আগামীর সময়: অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, এম সাখাওয়াত হোসেনসহ কেউ কেউ পরে দাবি করেছেন, তারা সরকারের ভেতরে থেকে এসব অন্যায্য চুক্তির বিরোধিতা করার চেষ্টা করেছিলেন বা জানতেন না; কিন্তু তাদের কথা শোনা হয়নি।

আনু মুহাম্মদ: ফরিদা আখতার যে অন্যায্য চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন, সে অবস্থানকে আমি শ্রদ্ধা জানাই। কিন্তু সরকারের অংশ হিসেবে দায়িত্ব শুধু ভেতরে বিরোধিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এরকম একটি ভয়াবহ চুক্তি যখন একটি সরকার করে, তখন শুধু পদে থেকে বিরোধিতা করা যথেষ্ট নয়। তার উচিত ছিল পদত্যাগ করা এবং পদত্যাগ করে জনগণের কাছে সত্যিটা প্রকাশ করা যে— কীভাবে জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

আগামীর সময়: ফরহাদ মজহার অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিকে একটি বৈকল্পিক জায়গা থেকে ব্যাখ্যা করেছেন (যেমন শহীদ মিনারে শপথ, সংবিধান ছুড়ে ফেলা ইত্যাদি)।

আনু মুহাম্মদ: ফরহাদ মজহারের কথা যদি আমরা বিশ্লেষণ করি, তবে সেখানে চরম বৈপরীত্য ও সংগতিহীনতা দেখা যায়। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত সরকার— যেখানে সিংহভাগই ছিলেন প্রবাসী, ডানপন্থী এবং মার্কিন বা সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থার অনুগত— সেই সরকারকে ফরহাদ মজহার ‘বিপ্লবী সরকার’ হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন! এটি একটি চরম রাজনৈতিক বিভ্রান্তি। আবার কিছুদিন পর তিনিই বলছেন, এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চক্রান্ত। যদি তিনি জেনেই থাকেন এটি মার্কিন চক্রান্তের ফল, তবে সেই সরকারের কাছে ‘বিপ্লবী’ আচরণের প্রত্যাশা তিনি করেছিলেন কীভাবে?

দ্বিতীয়ত, ৫ আগস্টের পর যারা মাজার, বাউল ও নাটকের মঞ্চে ভাঙচুর ও সন্ত্রাস চালাচ্ছে, ফরহাদ মজহার সেটিকে ‘জনগণের ক্ষোভের প্রকাশ’ হিসেবে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করছেন। তিনি এই উগ্রবাদী ও হিংস্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি অসীম ‘ভালোবাসা’ ছড়াচ্ছেন অথচ সমাজে যারা লিবারেল, বামপন্থী বা নারী অধিকারের পক্ষে কথা বলছেন— তাদের প্রতি অবিরাম বিষোদ্গার ও বিদ্বেষ বর্ষণ করছেন। একধরনের কৃত্রিম ‘বাম-ফোবিয়া’ বা সমাজতন্ত্র নিয়ে ভীতি সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে। ফরহাদ মজহার একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী লেখক ও কবি। কিন্তু তিনি যদি মনে করেন, ভালোবাসা দিয়ে উগ্রবাদীদের পরিবর্তন করবেন, তবে তো তার প্রথম কাজ হওয়া উচিত ছিল তাদের স্পষ্টভাবে বলা—‘তোমরা নারীবিদ্বেষ থামাও, জাতিগত বিদ্বেষ ছাড়ো, শিশুদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করো এবং সাম্রাজ্যবাদের লেজ হওয়া বন্ধ করো।’

কিন্তু তিনি তা না করে উল্টো হিংস্রতা ও উগ্রবাদকে একধরনের আদর্শিক বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। উগ্রবাদীদের প্রতি তার এই অন্ধ ভালোবাসার ফলাফল কী দাঁড়িয়েছে? ফরহাদ মজহারের উচিত এখন নিজের অতীত বক্তব্য ও কাজের ফলাফল নিয়ে একটি আত্মপর্যালোচনা করা।

আগামীর সময়: বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনায় ‘গুপ্ত রাজনীতি’ শব্দটি খুব বেশি শোনা যাচ্ছে। বামপন্থী সংগঠনে গুপ্ত বা ছদ্মবেশী রাজনীতির কতটুকু বিস্তার ঘটেছে?

আনু মুহাম্মদ: গুপ্ত রাজনীতির অস্তিত্ব নিশ্চিতভাবেই আছে এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে এদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে তারা গোপনে কাজ করার একটি বড় ‘পরীক্ষাগার’ হিসেবে ব্যবহার করেছে।

সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর ভেতরেও তারা যে পরিচয় লুকিয়ে ঢুকে পড়েনি— এ সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আশঙ্কা অত্যন্ত বাস্তব।

আগামীর সময়: একদল বিশ্লেষক দাবি করার চেষ্টা করে— জুলাই অভ্যুত্থান আসলে মার্কিন ডিপ স্টেটের চাল কিংবা একটি ‘রেইনবো রেভল্যুশন’। ভূরাজনৈতিক এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে আপনি কীভাবে দেখেন?

আনু মুহাম্মদ: যেকোনো গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত শাসকগোষ্ঠী নিজেদের অপরাধ ও অপশাসনকে ঢাকতে এসব ভূরাজনৈতিক ষড়যন্ত্র তত্ত্বের দোহাই দেয়। বাস্তবতা হলো, কোনো দেশে যখন গণঅভ্যুত্থান ঘটে, তখন বিভিন্ন পরাশক্তি (যেমন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন বা রাশিয়া) পরিস্থিতিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করে। এটি পাড়ার কোনো ঝগড়া থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ঘটনা— সবক্ষেত্রেই সত্য। আমাদের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও ভারত নিজের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ বিবেচনা করেই ভূমিকা রেখেছিল, তার মানে এই নয়, মুক্তিযুদ্ধ ভারতের চক্রান্তে হয়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্যান্য শক্তি অবশ্যই আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে এবং আন্দোলনকারীদের কোনো কোনো অংশকে নিজেদের পকেটে পুরতে চেয়েছে বা পুরেছে। কিন্তু তার অর্থ এই নয়, কোটি কোটি মানুষ যে রাজপথে নেমে এলো, কিংবা শত শত তরুণ যে প্রাণ দিল— তা মার্কিন চক্রান্তে হয়েছে। এই গণঅভ্যুত্থানের প্রধান কারিগর হলেন শেখ হাসিনা নিজে এবং তার গত ১৬ বছরের জুলুম ও দুঃশাসন।

আগামীর সময়: সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সংকট— যেমন শ্রমিকের বকেয়া বেতন, শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা বা ক্যারিয়ার চাহিদার সঙ্গে কি বামপন্থীরা ঠিকমতো যুক্ত হতে পারছে? বাম রাজনৈতিক দলের কি কোনো গঠনগত সংকট রয়েছে?

আনু মুহাম্মদ: এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং গভীর পর্যালোচনার একটি বিষয়। বিশ্বব্যাপীই ডানপন্থী ও সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী রাজনীতির একটি বড় উত্থান দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রসঙ্গে যদি ডানপন্থী বা জামায়াতের কথা বলি, তাদের যে বিশাল অর্থনৈতিক শক্তি, তার পেছনে রয়েছে ধর্মকে ব্যবহার করে সম্পদ সংগ্রহের প্রক্রিয়া। তারা ইসলামের নামে তহবিল সংগ্রহ করে রাজনীতির কাজে লাগায়। বামপন্থীদের সেই আর্থিক প্রতিযোগিতা করার সুযোগ নেই।

তবে বামপন্থীদের নিজস্ব সীমাবদ্ধতা ও গঠনগত সংকটও রয়েছে। ডানপন্থী দলগুলো প্রায়ই নিজস্ব সামাজিক-অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক (যেমন চ্যারিটি, ক্লাব, কোচিং, আবাসন বা কর্মসংস্থানে সহায়তা) তৈরি করে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত হয়। বামপন্থীরা এ ধরনের বিকল্প সামাজিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। বামপন্থীরা প্রায়ই জাতীয় সম্পদ রক্ষা, সাম্রাজ্যবাদ বা বড় রাজনৈতিক তত্ত্ব নিয়ে কথা বলে। এ বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বড় আদর্শিক ফ্রেমকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন রুটিরুজির সংকটের সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করার কৌশলে দুর্বলতা রয়েছে। বামপন্থীদের নিয়ে মিডিয়ারও একধরনের অনীহা তৈরি হয়েছে। বামপন্থীদের নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামো, কাজের ধরন এবং মানুষের কাছে পৌঁছানোর কৌশল নিয়ে বড় ধরনের পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

আগামীর সময়: নেপাল, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও ভারতের সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলোকে অনেকে ‘জেন-জি (Gen-Z) মুভমেন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। অন্যদিকে ষাটের দশকে যে একটি বৈশ্বিক প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী জেনারেশনাল ঢেউ ছিল— তার সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের এই আন্দোলনের গুণগত তফাত ও সামঞ্জস্যকে কীভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

আনু মুহাম্মদ: প্রথমত, ‘জেন-জি’ (Gen-Z) শব্দটি আমার কাছে পুরোপুরি সঠিক মনে হয় না। ‘জেন-জি’ বা নির্দিষ্ট বয়সের যে তরুণদের কথা বলা হচ্ছে, সবাই তো এক মানসিকতার নয়। সব কালেই, সব দেশেই তরুণরা আন্দোলনের প্রধান অনুঘটক হিসেবে সামনে থাকে। বাংলাদেশের ’৫২, ’৬৯, ’৭১ কিংবা ’৯০-এর অভ্যুত্থানেও তরুণরাই সামনে ছিল।

ষাটের দশকের তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের সঙ্গে বর্তমান তরুণদের একটি মৌলিক জায়গায় মিল রয়েছে— তা হলো ‘ব্যবস্থা ও কর্তৃপক্ষের প্রতি অনাস্থা’। আজ নেপাল, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ বা ভারতে যে আন্দোলনগুলো হচ্ছে, সেগুলো কীসের বিরুদ্ধে? এগুলো হচ্ছে ঔদ্ধত্য, দাপট, স্বৈরাচারী শাসন, সামাজিক নিপীড়ন, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে। এই যে বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তরুণরা আওয়াজ তুলছে— এটি বাম সমাজতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষারই একটি অপরিণত প্রকাশ। কারণ, তারা সমাজকে কোন পথে নিয়ে যাবে— সে স্পষ্ট রূপরেখা বা বিকল্প রাজনৈতিক পথ তাদের সামনে পরিষ্কার নয়।

ষাটের দশকের যুদ্ধবিরোধী বা কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনের চেতনা দীর্ঘ অপশাসনের কারণে অনেকের কাছে এখন অকার্যকর মনে হচ্ছে। তরুণরা সমুদ্রের ঝুঁকি নিয়ে হলেও উন্নত জীবনের সন্ধানে দেশ ছাড়ছে। তাদের মধ্যে ডানপন্থী দলগুলোর প্রতিও কোনো প্রকৃত আস্থা নেই, আবার বর্তমান বাম দলগুলোর ওপরও আস্থা বা নতুন সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে ওঠেনি।

আমরা মূলত একটি ‘অন্তর্বর্তীকালীন রূপান্তরকাল’ পার করছি। তরুণরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে মাঠে নামছে ঠিকই; কিন্তু সেটিকে একটি সংগঠিত, রাজনৈতিক ও আদর্শিক কাঠামো দেওয়ার কাজটি এখনো বাকি রয়ে গেছে। নতুন আদর্শিক ও সাংগঠনিক রূপকাঠামো তৈরি করাই এখনকার সবচেয়ে জরুরি কাজ। ভবিষ্যৎ অবশ্যই বামপন্থার বা মুক্তিকামী মানুষের।

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটিজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়গণঅভ্যুত্থানঅভ্যুত্থান-উত্তর রাজনীতি
    শেয়ার করুন:
    advertisement
    advertisement
    নরসিংদীতে ইয়াবাসহ চিকিৎসক আটক

    নরসিংদীতে ইয়াবাসহ চিকিৎসক আটক

    ২৫ জুলাই ২০২৬, ০০:০৫

    কাফরুলে যুবদলের সদস্য সচিবসহ দুইজন গুলিবিদ্ধ

    কাফরুলে যুবদলের সদস্য সচিবসহ দুইজন গুলিবিদ্ধ

    ২৫ জুলাই ২০২৬, ০০:৩৭

    থাইল্যান্ড থেকে আনা ১২ কেজি গাঁজাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

    থাইল্যান্ড থেকে আনা ১২ কেজি গাঁজাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

    ২৫ জুলাই ২০২৬, ০০:৫৪

    জব্দ ইরানি সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণের  ঘোষণা ট্রাম্পের

    জব্দ ইরানি সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণের  ঘোষণা ট্রাম্পের

    ২৫ জুলাই ২০২৬, ০০:৪৪

    বঙ্গভবনের দরজা পেরিয়ে ‘অনিশ্চিত যাত্রায়’ সাহাবুদ্দিন

    বঙ্গভবনের দরজা পেরিয়ে ‘অনিশ্চিত যাত্রায়’ সাহাবুদ্দিন

    ২৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৩১

    আন্দোলনকারীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা বলে সমালোচনার মুখে সালমান

    আন্দোলনকারীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা বলে সমালোচনার মুখে সালমান

    ২৫ জুলাই ২০২৬, ০১:১৬

    কাফরুলে গুলিবিদ্ধ বিএনপিকর্মী নিহত, আহত ২

    কাফরুলে গুলিবিদ্ধ বিএনপিকর্মী নিহত, আহত ২

    ২৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৫১

    বিদেশে কর্মী পাঠাতে ‘আস্থার সংকট’ কাটাতে চায় সরকার

    বিদেশে কর্মী পাঠাতে ‘আস্থার সংকট’ কাটাতে চায় সরকার

    ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:০২

    পশুপাখির প্রতি শরীফের ভালোবাসা

    পশুপাখির প্রতি শরীফের ভালোবাসা

    ২৫ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৩

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩ বছরের শিশুর ভাড়া নিয়ে ‘লঙ্কাকাণ্ড’

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩ বছরের শিশুর ভাড়া নিয়ে ‘লঙ্কাকাণ্ড’

    ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৭

    স্পিকার হাফিজ উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হওয়ায় লালমোহনে আনন্দ মিছিল

    স্পিকার হাফিজ উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হওয়ায় লালমোহনে আনন্দ মিছিল

    ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৩

    হাসপাতালের বাথরুম থেকে রোগীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    হাসপাতালের বাথরুম থেকে রোগীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৪

    বিশ্বস্ত কাউকে চায় বিএনপি

    বিশ্বস্ত কাউকে চায় বিএনপি

    ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৭

    অতিরিক্ত মাদক সেবনে সৌদি প্রিন্সের মৃত্যু

    অতিরিক্ত মাদক সেবনে সৌদি প্রিন্সের মৃত্যু

    ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৭

    সক্রিয় চক্র অসহায় শিশু

    সক্রিয় চক্র অসহায় শিশু

    ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৯

    advertiseadvertise