ডোনাল্ড ট্রাম্প
পাকিস্তান সফর বাতিল যুদ্ধে ফেরার ইঙ্গিত নয়

সংগৃহীত ছবি
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় বসতে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যাওয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ইসলামাবাদ ত্যাগের পর, সফরটি বাতিল করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে বলছিলেন ট্রাম্প, ‘সব তাস আমাদের হাতেই। যখন ইচ্ছা আমাদের ফোন করতে পারবে তারা, কিন্তু শুধু বসে বসে অনর্থক কথা বলার জন্য ১৮ ঘণ্টার ফ্লাইটের সময় তাদের নষ্ট হোক, তা চাইনি।’ এর আগে দাবি করছিলেন তিনি, দুই মাসের সংঘাত শেষ করতে প্রস্তাব করেছে ইরান।
এদিকে সফর বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ‘অনেক বেশি সময় নষ্ট হচ্ছিল ভ্রমণে, কাজের চাপও অনেক বেশি।’ তার অভিযোগ, ‘ইরানের নেতৃত্ব নিয়েও রয়েছে প্রচণ্ড কোন্দল ও বিভ্রান্তি। দায়িত্বে আছে কে, তা কেউ জানে না, এমনকি তারা নিজেরাও না।’
সফর বাতিলের ফলে যুদ্ধের সম্ভবনা রয়েছে কিনা, অ্যাক্সিওসের এমন এক প্রশ্নের জবাবে বলছিলেন ট্রাম্প, ‘দুই শীর্ষ উপদেষ্টার পূর্বনির্ধারিত ইসলামাবাদ সফর বাতিলের অর্থ এই নয় যে, আবারও যুদ্ধের পথে হাঁটছে ওয়াশিংটন।’
এর আগে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে শনিবার সন্ধ্যায় আব্বাস আরাকচি ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শনিবার ওমানের রাজধানী মাস্কাটে পৌঁছেছেন আরাকচি। সেখানে ওমানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এরপর রাশিয়ায় যাবেন। সেখানে যুদ্ধ শেষ করার উপায় নিয়ে হবে আলোচনা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স’র এক পোস্টে জানিয়েছেন আরাকচি, পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের কাছে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি। ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার একটি কার্যকর কাঠামো নিয়ে কথা বলেছি আমরা। তবে যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহী কি না, তা এখনও পরিষ্কার নয়।’
কূটনৈতিক মহলে এ সফর বাতিল নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। তবে ট্রাম্পের বক্তব্য আপাতত সেই গুঞ্জনকে থামিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে সতর্ক নজর রেখেছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

