সাইবার নিরাপত্তায় আঘাত
যুক্তরাষ্ট্রের ৪১ হাজার সরকারি কর্মীর তথ্য ফাঁস

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থায় তৈরি হয়েছে বড় ধরনের সাইবার নিরাপত্তা সংকট। দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) ৪১ হাজারের বেশি কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করেছে একটি হ্যাকার গোষ্ঠী। ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে কর্মকর্তাদের নাম, ফোন নম্বর, ইমেইল ঠিকানা, পদবি, কর্মস্থল ও দায়িত্বসংক্রান্ত বিবরণ। তালিকায় অভিবাসনবিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী আইস, সীমান্তরক্ষী এবং গোপন তদন্তে যুক্ত কর্মকর্তাদের তথ্যও রয়েছে।
গত বুধবার প্রকাশ করা হয় তথ্যগুলো। ‘আইসপিক’ নামে একটি অনুসন্ধানযোগ্য অনলাইন ডেটাবেসে সাজানো হয়েছে এসব তথ্য। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের সাংবাদিকরা প্রকাশিত ডেটাবেসের তথ্য যাচাই করে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বর্তমান ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তথ্যগুলো মিলিয়ে দেখা হয়েছে। তবে প্রকাশিত তালিকাটি পূর্ণাঙ্গ নয় এবং এতে কিছু ভুল থাকতে পারে বলে প্রকাশকারীরাও স্বীকার করেছেন।
আইস ও সীমান্তরক্ষীদের তথ্যও প্রকাশ
ফাঁস হওয়া তথ্যের বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশনের (সিবিপি) ২১ হাজারের বেশি কর্মীর রেকর্ড রয়েছে। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) প্রায় ৬ হাজার ৬০০ কর্মীর তথ্যও এতে অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অন্য সংস্থার কর্মীদের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, কিছু তথ্যের সঙ্গে গোপন অভিযান, নজরদারি, বিশেষ তদন্ত এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমে যুক্ত কর্মীদের দায়িত্বের বিবরণ রয়েছে।
‘ডিপার্টমেন্ট অব পিস’ নামে গোষ্ঠীর দায় স্বীকার
‘ডিপার্টমেন্ট অব পিস’ নামে একটি গোষ্ঠী দায় স্বীকার করেছে এই তথ্য সংগ্রহের। তাদের দাবি, ডিএইচএসের কর্মীদের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে প্রবেশের জন্য ব্যবহৃত সিঙ্গেল সাইন-অন ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা তথ্য পেয়েছে। পরে তথ্যগুলো ডেটা স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সিক্রেটসের (ডিডিওসিক্রেটস) কাছে দেওয়া হয়। সুইস হ্যাকার ও সাংবাদিক মাইয়া আরসন ক্রিউ ওই তথ্য দিয়ে অনুসন্ধানযোগ্য ডেটাবেস তৈরি করেন। গোষ্ঠীটির বক্তব্য, ডিএইচএসের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনসাধারণের নজরদারি ও জবাবদিহি বাড়াতেই এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের দাবি, সরকারি কর্মকর্তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে।
তদন্ত শুরু, উদ্বেগ হোয়াইট হাউজেও
হোয়াইট হাউজের সীমান্তবিষয়ক কর্মকর্তা টম হোম্যান গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, এ তথ্য ফাঁসের ঘটনা তদন্ত করছে বিচার বিভাগ। তার আশঙ্কা, প্রকাশিত তথ্যের কারণে আইস কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যরাও নিরাপত্তাঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, আইস কর্মকর্তারাও পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। তাদেরও নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত জীবনের অধিকার রয়েছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। সাবেক আইস পরিচালক জন স্যান্ডওয়েগ এ ঘটনাকে ভয়াবহ পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, গোপন তদন্তে যুক্ত কর্মকর্তাদের পরিচয় প্রকাশ পেলে অপরাধী চক্র ও মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।



