এআইয়ের ঢেউয়ে ধনীদের সোনালি বছর, বিশ্বে বিলিয়নিয়ার রেকর্ড ৩,৭৯৫
- ২৯ ‘সুপার বিলিয়নিয়ারের’ হাতেই মোট সম্পদের ২৭ শতাংশ

আলট্রাটা প্রতিবেদনে ২৯ জনকে ‘সুপার বিলিয়নিয়ার’ বলা হয়েছে, যাদের প্রত্যেকের সম্পদ ৫ হাজার কোটি ডলারের বেশি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোয়ার বদলে দিচ্ছে বিশ্বের সম্পদের মানচিত্রও। এআই–কেন্দ্রিক বিনিয়োগে শেয়ারবাজারের উল্লম্ফন আর প্রযুক্তি কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধির হাত ধরে ২০২৫ সালে বিশ্বে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা পৌঁছেছে রেকর্ড ৩ হাজার ৭৯৫ জনে। এক বছরে এই সংখ্যা বেড়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে তাদের সম্মিলিত সম্পদ ১২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১৫ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে।
সম্পদবিষয়ক তথ্য ও বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান আলট্রাটার বিলিয়নিয়ার সেনসাস ২০২৬-এর প্রতিবেদনে এই ছবি উঠে এসেছে। ২৭ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশকে বিশ্বের বিলিয়নিয়ার জনগোষ্ঠী প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। তাদের মোট সম্পদ এখন এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের সম্মিলিত বাজারমূল্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।
এ উত্থানের বড় চালিকাশক্তি এআই। আলট্রাটা এমন ১৫০টি তালিকাভুক্ত কোম্পানি বিশ্লেষণ করেছে, যেগুলো বিলিয়নিয়ারদের সম্পদ তৈরিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। গত পাঁচ বছরে এআই খাতে অন্তত ৩ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য ২০২৪ ও ২০২৫ মিলিয়ে, এআইয়ে বিনিয়োগ না করা কোম্পানির তুলনায় ২৩ শতাংশ দ্রুত বেড়েছে।
কিন্তু সম্পদের এই উত্থান সবার জন্য সমান নয়। বরং ধনীদের মধ্যেও ব্যবধান আরও চওড়া হচ্ছে। প্রতিবেদনে ২৯ জনকে ‘সুপার বিলিয়নিয়ার’ বলা হয়েছে, যাদের প্রত্যেকের সম্পদ ৫ হাজার কোটি ডলারের বেশি। তাদের সম্মিলিত সম্পদ ৪ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার, যা বিশ্বের সব বিলিয়নিয়ারের মোট সম্পদের ২৭ শতাংশ। ২০১৭ সালে এমন ধনী ছিলেন মাত্র ১০ জন; তখন তাদের হাতে ছিল মোট বিলিয়নিয়ার সম্পদের ৭ দশমিক ২ শতাংশ।
আলট্রাটার থট লিডারশিপ ও অ্যানালিটিকস বিভাগের প্রধান মায়া ইমবার্গ সিএনবিসি-কে বলেছেন, “এআইয়ের গল্পের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর শীর্ষ ধনীদের সম্পদ ওঠানামা করবে।” সেই অস্থিরতার নমুনাও মিলেছে। জুলাইয়ে বড় চিপ কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ধসে বাজারমূল্য থেকে প্রায় ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার উধাও হয়। ফোর্বসের হিসাবে, এক দিনেই ইলন মাস্কের সম্পদ কমেছিল ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার, ল্যারি এলিসনের এক সপ্তাহে ৫ হাজার কোটি ডলার।
অঞ্চলভিত্তিক হিসাবেও এগিয়ে উত্তর আমেরিকা। সেখানে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ১১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৩৩৭। ইউরোপে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮১ এবং এশিয়ায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৮৮১। সেপ্টেম্বরের ফোর্বস তালিকার শীর্ষ ১০ ধনীর ৯ জনই প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে যুক্ত; অর্ধেকের সম্পদ ২০ হাজার কোটি ডলারের বেশি।
এআই তাই সম্পদ তৈরির নতুন ইঞ্জিন, আবার ঝুঁকিরও নতুন নাম। ২০২৫ সালে মহামারির পর প্রথমবার আলট্রাটা অনুসরণ করা সব বড় সম্পদশ্রেণিতেই ইতিবাচক ফল এসেছে। কিন্তু প্রযুক্তি ও এআই–কেন্দ্রিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ যত জমাট বাঁধছে, ততই বাড়ছে অস্থিরতার আশঙ্কা। বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা রেকর্ড ছুঁয়েছে ঠিকই, সেই রেকর্ডের আড়ালে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে আরেক বাস্তবতা, বিশ্বের বিপুল সম্পদের ক্রমবর্ধমান অংশ জমা হচ্ছে খুব অল্প কয়েকজনের হাতে।





