নেতারাই আসলো না ট্রাম্পের ডাকে, ভোটার আসবে কি?
- মধ্যবর্তী নির্বাচনে জিতলে ট্রাম্প আরও শক্তিশালী
- হারলে কংগ্রেসই বড় প্রতিপক্ষ

ট্রাম্পের মতে, কংগ্রেসের ভোট মানেই ট্রাম্পের নীতির পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট।
ডালাসে রিপাবলিকানদের প্রথম জাতীয় মধ্যবর্তী কনভেনশন। মঞ্চে ডোনাল্ড ট্রাম্প, সামনে ৩ নভেম্বরের নির্বাচন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, দলই যদি পুরোপুরি তাঁর পাশে না থাকে, ভোটার কতটা থাকবে?
কনভেনশনে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের কয়েকজন রিপাবলিকানের অনুপস্থিতি সেই প্রশ্নই সামনে এনেছে। ট্রাম্প অবশ্য নির্বাচনকে নিজের নেতৃত্বের ওপর গণভোটে পরিণত করতে চাইছেন। তার বার্তা স্পষ্ট—কংগ্রেসের ভোট মানেই ট্রাম্পের নীতির পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট।
ডালাসের খালি চেয়ার তাই শুধু অনুপস্থিতির হিসাব নয়; রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরের অঙ্কেরও ইঙ্গিত।
ট্রাম্পের বাজি
ট্রাম্পের নাম ব্যালটে নেই। তাই তার কৌশল—ভোটারদের বোঝানো, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে থাকলেই তার দ্বিতীয় মেয়াদের এজেন্ডা এগিয়ে যাবে।
লক্ষ্য— ট্রাম্পের ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনা, অর্থ সংগ্রহ বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ আসনে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কাজে লাগানো।
কিন্তু এখানেই দ্বন্দ্ব। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা যেমন রিপাবলিকানদের সম্পদ, কিছু আসনে সেটিই বোঝা হতে পারে। অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, কঠিন লড়াইয়ে থাকা কয়েকজন রিপাবলিকান কনভেনশনে যাননি। সিবিএস জানিয়েছে, বেশ কয়েকজন ঝুঁকিপূর্ণ রিপাবলিকান প্রার্থী স্থানীয় প্রচারণায় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অর্থাৎ ট্রাম্পকে প্রয়োজন, কিন্তু সব জায়গায় তার ছায়া চান না প্রার্থীরা।
জিতলে আরও শক্তিশালী ট্রাম্প
বর্তমান কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের ব্যবধান খুবই কম। হাউস ও সিনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে কর, অভিবাসন, সীমান্ত, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও প্রশাসনিক নিয়োগে ট্রাম্পের হাত আরও শক্ত হবে। সিনেট নিয়ন্ত্রণে থাকলে বিচারক ও গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেল নিয়োগেও তাঁর সুবিধা বজায় থাকবে।
এরই মধ্যে বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। রিপাবলিকানরা দুই কক্ষ ধরে রাখতে পারলে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলারের ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ দেওয়ার কথা বলেছেন। রয়টার্সের হিসাবে সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ১.৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার।
প্রশ্ন—এত অর্থ আসবে কোথা থেকে? ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতিতে এর প্রভাবই বা কী হবে?
হারলে কংগ্রেসই হবে কাঁটা
ডেমোক্র্যাটরা হাউস দখল করলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত, শুনানি ও নজরদারি বাড়তে পারে। সিনেটও হাতছাড়া হলে গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ আটকে যেতে পারে। আইন পাসে ট্রাম্পকে বাধ্য হতে হবে বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতায়।
অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট থাকলেও দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময় তার রাজনৈতিক স্বাধীনতা সংকুচিত হতে পারে।
ভোটারই শেষ কথা
রিপাবলিকানদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ভোটারদের মনোভাব। ব্রুকিনসের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে ট্রাম্পের অনুমোদন ৪০ শতাংশের নিচে থাকার কথা উঠে এসেছে। উচ্চ মূল্য এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষও চাপ বাড়াচ্ছে।
রয়টার্সের জরিপে মাত্র ২৫ শতাংশ আমেরিকান বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধটি সার্থক। ফলে যুদ্ধ ও অর্থনীতি—দুই ইস্যুই রিপাবলিকানদের জন্য ঝুঁকি।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঐতিহাসিক প্রবণতাও ট্রাম্পের পক্ষে নয়। সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল এ নির্বাচনে আসন হারায়। সেই ধারাই এবার ভাঙতে চান ট্রাম্প। প্রায় ৩৫টি গুরুত্বপূর্ণ হাউস ও সিনেট রেসে সরাসরি প্রচারে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের পর কে?
কনভেনশনে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের উপস্থিতি সামনে এনেছে আরেক প্রশ্ন—ট্রাম্পের পর রিপাবলিকান নেতৃত্ব কার হাতে যাবে?
তাই ৩ নভেম্বরের নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের লড়াই নয়; এটি ট্রাম্প-পরবর্তী রিপাবলিকান রাজনীতিরও প্রাথমিক শক্তি-পরীক্ষা।
শেষ হিসাব তিনটি—ভোটার, অর্থনীতি ও দল।
ট্রাম্প জিতলে বলবেন, আমেরিকা তার নীতির পক্ষে রায় দিয়েছে। হারলে শুরু হবে কঠিন প্রশ্ন—রিপাবলিকানরা কি ট্রাম্পকে সামনে রেখে জিততে পারছে, নাকি ট্রাম্পের ছায়াই এখন দলের নির্বাচনী বোঝা?
৩ নভেম্বর তাই শুধু কংগ্রেসের ভোট নয়—এটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের রাজনৈতিক ভবিষ্যতেরও পরীক্ষা।
সূত্র: রয়টার্স, এপি, ফিনানসিয়াল টাইমস, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, গ্যালপ ও অ্যাক্সিওস



