মধ্যবর্তী নির্বাচনে সরাসরি হস্তক্ষেপের পথে ট্রাম্পের বিচার বিভাগ

ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিচার বিভাগ মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সরাসরি হস্তক্ষেপের আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কয়েক দশকের প্রচলিত রীতির ব্যত্যয় ঘটছে। এত দিন বিচার বিভাগের আইন প্রয়োগের ক্ষমতা কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর সুবিধায় ব্যবহৃত হচ্ছে— এমন ধারণা তৈরি হওয়া এড়াতে সতর্কতা অবলম্বন করা হতো।
ক্যালিফোর্নিয়ায় বিচার বিভাগ ডাকযোগে ভোট দেওয়া প্রায় ২০ হাজার ভোটারের ব্যালট বাতিলের আবেদন জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এসব ভোটারের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন এবং ভোট দেওয়ার যোগ্যতা রাখেন না।
এ সংক্রান্ত একটি ফৌজদারি তদন্তে নথিপত্রও চেয়েছে বিচার বিভাগ। ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষ বলেছে, অমার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়া ঠেকাতে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। একই সঙ্গে তাদের যুক্তি, ভোট আটকে দেওয়ার এখতিয়ার বিচার বিভাগের নেই।
আলাস্কায় রিপাবলিকান দলের বর্তমান সিনেটর ড্যান সুলিভানের একই নামের এক প্রার্থী ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন কি না, তা নিয়ে ফৌজদারি তদন্ত জোরদার করেছে বিচার বিভাগ। ড্যান সুলিভান অল্প ব্যবধানে হেরে গেলে নির্বাচনের ফলের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি আটকে দেওয়ার আবেদনও জানিয়েছিল তারা। তবে রবিবার এক ফেডারেল বিচারক সেই মামলা খারিজ করে দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ‘ঝুঁকিতে’ থাকে ক্ষমতাসীন দল, ইতিহাস কী বলে
০২ নভেম্বর ২০২৬
দুই অঙ্গরাজ্যের বিরুদ্ধেই বিচার বিভাগের করা মামলা আদালত খারিজ করেছেন। তবে ভোট গণনা ও ফলের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির আগেই নির্বাচনী বিরোধে হস্তক্ষেপ করতে বিচার বিভাগ কতটা আগ্রহী, এসব মামলা তা স্পষ্ট করেছে। আলাস্কার আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে বিচার বিভাগ।
সমালোচকদের আশঙ্কা, মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ ও অবিশ্বাস ছড়ানোর যে কোনো প্রচেষ্টায় ট্রাম্পকে আরও সক্রিয়ভাবে সহায়তা করতে পারে বিচার বিভাগ। এই নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ এবং বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনের ফল নির্ধারিত হবে।
নাগরিক অধিকারসংক্রান্ত হুমকির মুখে নির্বাচনী পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগে বিচার বিভাগের নেতৃত্ব দেওয়া এবং বর্তমানে ‘রুল অব ল প্রজেক্ট’ প্রতিষ্ঠা করা মার্ক ব্লুমবার্গ বললেন, ‘মনে হচ্ছে, প্রশাসন চাইছে বিচার বিভাগ এমন প্রভাব বিস্তার করুক, যা আগে নিষিদ্ধ ছিল।’
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেছেন, বিচার বিভাগের পদক্ষেপগুলো আইনসম্মত এবং ভোটের স্বচ্ছতা রক্ষার উদ্দেশেই নেওয়া হচ্ছে।
বিচার বিভাগের মুখপাত্র কার্স্টেন পেলস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বিভাগ কোনো নির্বাচনী প্রচারে সহায়তা করছে না। তারা আইন প্রয়োগ করছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যগুলোর। তবে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিযোগ, ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যগুলো অমার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়া ঠেকাতে যথেষ্ট ব্যবস্থা নিচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে অমার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়া নিষিদ্ধ। ট্রাম্প এখনো দাবি করে আসছেন, ২০২০ সালের নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির কারণেই তিনি হেরেছিলেন। তবে স্বাধীন গবেষণা ও অঙ্গরাজ্যগুলোর নিরীক্ষায় দেখা গেছে, ভোটার জালিয়াতির ঘটনা বিরল।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সংগঠন ২০২০ সালের নির্বাচনে তার পরাজয় চ্যালেঞ্জ করে ৬০টির বেশি মামলা করেছিল। সবকটিই ব্যর্থ হয়। তার প্রথম মেয়াদে বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা এসব প্রচেষ্টায় বিভাগকে যুক্ত করার চাপ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে প্রায়ই আদালতে প্রতিনিধিত্ব করা ইলিয়াস ল গ্রুপের ভোটাধিকারবিষয়ক আইনজীবী লিস ফ্রস্ট বলেছেন, ‘এ বছর ডানপন্থী প্রান্তিক সংগঠনগুলোকে আর এসব করতে হবে না। কারণ, বিচার বিভাগ স্পষ্টতই এসব করতে প্রস্তুত এবং আগ্রহী।’
নির্বাচনসংক্রান্ত তদন্তে ঐতিহ্যগতভাবে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিচার বিভাগ। কারণ, এ ধরনের তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততা অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। আবার প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলগুলোও নিজেদের স্বার্থে তা ব্যবহার করতে পারে।
বিচার বিভাগের সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, নির্বাচনী আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ পেশাদার কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত বিভাগটির ‘পাবলিক ইন্টিগ্রিটি সেকশন’ প্রায়ই তদন্তকারী ও সরকারি প্রসিকিউটরদের ফলের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত হস্তক্ষেপ না করার পরামর্শ দিত।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই ইউনিটের জনবল ব্যাপকভাবে কমিয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনসংক্রান্ত দুর্নীতির তদন্তে ফেডারেল প্রসিকিউটরদের এই ইউনিটের সঙ্গে পরামর্শ করার বাধ্যবাধকতাও স্থগিত করেছে। বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগ গঠনের মতো যথেষ্ট ভিত্তি আছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য মার্কিন অ্যাটর্নিদের কার্যালয়গুলোই বেশি উপযুক্ত।





