ট্রাম্পের অনুরোধে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ৩ দিনের যুদ্ধবিরতি

সংগৃহীত ছবি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ৯ মে থেকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে তিন দিনের যুদ্ধবিরতি হবে কার্যকর।
ভিক্টরি ডে উপলক্ষে নেওয়া এ সিদ্ধান্তকে চলমান সংঘাত নিরসনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার রাতে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প জানান, এ সময় উভয় পক্ষ বন্ধ রাখবে সব ধরনের সামরিক অভিযান। পাশাপাশি রাশিয়া ও ইউক্রেন মুক্তি দেবে একে অপরের এক হাজার করে যুদ্ধবন্দিকে।
ট্রাম্প উল্লেখ করেন, যুদ্ধবিরতির এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তার সরাসরি অনুরোধে।
তার ভাষ্য, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি উভয়েই যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে দেখিয়েছেন আগ্রহ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনা চলছে এগিয়ে।
তিনি আরও দাবি করেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়াবহ এই সংঘাতের অবসানে দুই পক্ষ সমাধানের দিকে এগোচ্ছে ধীরে ধীরে। খুব শিগগিরই যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন ট্রাম্প।
প্রায় চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ফেলেছে বড় প্রভাব। উভয় পক্ষের ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দীর্ঘ এই সংঘাতে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পর বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে এই সাময়িক যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত।
গত কয়েক দিনে ইউক্রেনে জোরদার হয় রাশিয়ার হামলা। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কিইভও আঘাত হানে। এতে দুই দেশেরই সাধারণ নাগরিকদের ঘটে প্রাণহানি। এর মধ্যেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয় দিবস সামনে রেখে রাশিয়ায় প্রস্তুতি চলছে বড় পরিসরে সামরিক প্যারেড আয়োজনের।
এই উপলক্ষে কার্যকর করা হয়েছে সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতি। একই সঙ্গে ইউক্রেনেও পালিত হয় বিজয় দিবস, কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল দেশটির।
এবারের প্যারেডে প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মস্কো। পাশাপাশি বিদেশি অতিথির সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম থাকবে বলে জানা গেছে ক্রেমলিন সূত্রে।
তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, বিজয় দিবসের আয়োজন ব্যাহত করার চেষ্টা হলে পাল্টা হামলা চালানো হবে ইউক্রেনে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরেই আহ্বান জানিয়ে আসছে যুদ্ধ বন্ধের। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কূটনৈতিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, রাশিয়া তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।



