জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল
- এক বছরে ব্যবহারকারী কমেছে ৩৮%

পোস্ট করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলছে রাজনৈতিক বক্তব্য। আন্তর্জাতিক সংকট নিয়েও লিখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবু তার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের কমছে ব্যবহারকারী। এক বছরে দৈনিক ব্যবহারকারী কমেছে প্রায় ৩৮ শতাংশ। এতে ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
১৪ অক্টোবর প্রকাশিত দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে সিমিলারওয়েবের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে ট্রুথ সোশ্যালের দৈনিক ব্যবহারকারী ছিল প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে তা নেমে আসে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজারে। অর্থাৎ, এক বছরের কিছু বেশি সময়ে ব্যবহারকারী কমেছে প্রায় ৩৮ শতাংশ।
তবে এই পরিসংখ্যান দিয়ে ট্রাম্পের সামগ্রিক রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা কমেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এটি মূলত তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীর প্রবণতা তুলে ধরে।
ট্রাম্পের নিজস্ব রাজনৈতিক মঞ্চ
২০২২ সালে চালু হয় ট্রুথ সোশ্যাল। বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার পর নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে অন্য প্ল্যাটফর্মে তাঁর অ্যাকাউন্ট ফিরে এলেও ট্রুথ সোশ্যাল ব্যবহার অব্যাহত রাখেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিভিন্ন নীতি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে এখানে পোস্ট করেন ট্রাম্প। তার অনেক পোস্ট পরে মূলধারার সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়। ফলে প্ল্যাটফর্মটির বাইরেও তাঁর বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে।
কিন্তু সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় থাকা আর নিয়মিত ব্যবহারকারী বাড়ানো এক বিষয় নয়। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সেই পার্থক্য সামনে এনেছে।
আয়ের নতুন পথ খুঁজছে প্রতিষ্ঠান
ট্রুথ সোশ্যালের মূল প্রতিষ্ঠান ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ ব্যবহারকারী ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন আয়ের উৎস তৈরির চেষ্টা করছে। এর মধ্যে রয়েছে ’ট্রুথ এপিআই’ নামে একটি সেবা। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট গ্রাহকেরা ট্রাম্পসহ গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের পোস্ট দ্রুত পাওয়ার সুযোগ পান।
এ ধরনের সেবা থেকে আয় কতটা বাড়বে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে আর্থিক বাজারের সম্পর্ক থাকায় দ্রুত পোস্ট পাওয়ার সুবিধা নিয়ে তথ্যের সমান সুযোগ ও ব্যবসায়িক স্বার্থের প্রশ্নও উঠতে পারে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রশ্ন
২০২৬ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় ট্রুথ সোশ্যালের ব্যবহারকারী কমার তথ্য ট্রাম্পের রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশল নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তবে ব্যবহারকারী কমা মানেই ট্রাম্পের সমর্থক কমে যাওয়া নয়। তার বক্তব্য অন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিভিশন ও সংবাদমাধ্যমেও পৌঁছে যায়।
ট্রুথ সোশ্যালের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, কীভাবে নিয়মিত ব্যবহারকারী ধরে রাখা যায় এবং নতুন সেবা থেকে আয় বাড়ানো যায়। প্রেসিডেন্টের সক্রিয় উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ব্যবহারকারী কমার এই প্রবণতা প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।



