জাতিসংঘের কঠোর সতর্কবার্তা
চারদিকে দুর্যোগের ঢেউ, জলবায়ু সংকটে বিশ্ব

এআই নির্মিত ছবি
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে দুর্যোগ আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক নির্বাহী সচিব সাইমন স্টিয়েল। তিনি বলেছেন, কয়লা, তেল ও গ্যাসের ওপর মানুষের নির্ভরতার মূল্য এখন বিশ্বকে দিতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে স্টিয়েল বলেন, ‘জলবায়ুর সতর্কসংকেত সব দিক থেকেই জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে।’
তিনি বলেছেন, বিশ্বজুড়ে জলবায়ুজনিত দুর্যোগ এখন ‘দুঃস্বপ্নের মাত্রায়’ পৌঁছেছে। এর ফলে প্রাণহানি যেমন বাড়ছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি।
ফ্রান্স, স্পেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে রেকর্ড দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এসব আগুনের কারণে বহু মানুষকে ঘর ছাড়তে হয়েছে। ক্ষতির মুখে পড়েছে আঞ্চলিক ও জাতীয় অর্থনীতি। এর আগে তীব্র তাপপ্রবাহে শুকিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। চলতি সপ্তাহে আবারও তাপমাত্রা বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
স্টিয়েল বলেছেন, জলবায়ু সংকটের মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি এখন অনেক দেশে জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির পর্যায়ে পৌঁছেছে।
উত্তর আফ্রিকায় তাপমাত্রা গিয়ে ঠেকেছে প্রায় ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এতে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে মানুষের জীবন ও জীবিকা। একই সঙ্গে চাপের মুখে পড়েছে হাসপাতাল ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা।
প্রাণঘাতী ঝড়ে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও জীবনহানির মতো ঘটনা ঘটেছে চিলিতে। জাপানেও তৈরি হচ্ছে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড। টানা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের রেকর্ড হয়েছে দেশটিতে।
জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা বলেছেন, দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা বিশ্বের বাস্তবতা এখন কোটি কোটি মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে। এর পেছনে রয়েছে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে যাওয়ার ধীরগতি এবং বন রক্ষায় ব্যর্থতা।
তিনি বলেন, বিজ্ঞান এ বিষয়ে স্পষ্ট। মানুষের বিপুল পরিমাণ কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানোর কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, ভয়াবহ বন্যা ও শক্তিশালী ঝড় মতো ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটছে এবং ক্ষয়ক্ষতিও বাড়ছে।
স্টিয়েল বলেন, সমাধানের পথও পরিষ্কার। দ্রুত কয়লা, তেল ও গ্যাসের ব্যবহার কমাতে হবে। বাড়াতে হবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেছেন, অনেক ঝুঁকিপূর্ণ দেশ এই সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় গতি ও সক্ষমতা অর্জনের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন।




