গ্রিন কার্ডের চুক্তিতে বিয়ে বাণিজ্য
- চক্রের ১১ সদস্য গ্রেপ্তার

ছবি: এআই নির্মিত
বিয়ের সাজ, ছবি আর কাগজে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়—সবই ছিল, শুধু ছিল না দাম্পত্যের সম্পর্ক! নিউইয়র্কে গ্রিন কার্ড পাইয়ে দেওয়ার নামে কথিত ‘বিয়ে-বাণিজ্য’চক্রের পর্দাফাঁস। এক হাজারের বেশি সাজানো বিয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১১ জন; বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থের সম্ভাব্য অঙ্ক ছুঁতে পারে ১০ কোটি ডলার।
প্রেমের সম্পর্ককে অভিবাসনের কাগুজে চুক্তিতে পরিণত করা এই নেটওয়ার্কের বিস্তার ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন করে উদ্বেগ।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত নিউইয়র্ককে কেন্দ্র করে সক্রিয় ছিল এই নেটওয়ার্ক। বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে প্রতিটি বিয়ের জন্য নেওয়া হতো বিপুল অর্থ; কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেই অঙ্ক ১ লাখ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাত।
অভিযোগের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক—অনেক বিয়েই ছিল শুধু কাগজে-কলমে। কথিত চক্রের সদস্যরা বিদেশি নাগরিকদের জন্য মার্কিন নাগরিক ‘স্বামী’ বা ‘স্ত্রী’ খুঁজে দিতেন। এরপর বিয়েকে সত্যিকারের মনে করাতে ছবি, পোশাক, অনুষ্ঠান ও অন্যান্য প্রমাণ তৈরি করা হতো।
কিছু ক্ষেত্রে বিয়ের আগেই নির্ধারণ করা হতো—দম্পতি আলাদা থাকবেন এবং স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবনযাপন করবেন না। অভিবাসন প্রক্রিয়া শেষ হলে বিবাহবিচ্ছেদের ব্যবস্থাও করা হতো বলে অভিযোগ।
অর্থের বিনিময়ে ভুয়া বিয়েতে অংশ নেওয়া মার্কিন নাগরিকদের কাউকে প্রায় ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। নতুন বিদেশি ‘ক্লায়েন্ট’ সংগ্রহ করে দেওয়ার বিনিময়ে মধ্যস্থতাকারীরাও পেতেন হাজার হাজার ডলার।
এক হাজার বিয়েতে সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলারের হিসাব ধরলে সম্ভাব্য অঙ্ক ১০ কোটি ডলার পর্যন্ত দাঁড়ায়। তবে এটি সর্বোচ্চ সম্ভাব্য অঙ্কের গাণিতিক হিসাব; কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত করা মোট আয় হিসেবে ১০ কোটি ডলারকে দেখানো উচিত নয়।
গ্রিন কার্ড পাওয়ার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়া বিয়ে করা যুক্তরাষ্ট্রের আইনে গুরুতর অপরাধ। শুধু বিদেশি নাগরিক নয়, অর্থের বিনিময়ে এমন বিয়েতে অংশ নেওয়া মার্কিন নাগরিকও ফেডারেল আইনের আওতায় পড়তে পারেন।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধ বিবাহের সুযোগকে ব্যবহার করে প্রতারণা নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে বড় আকারের সংগঠিত নেটওয়ার্ক, বিপুল অর্থের লেনদেন এবং এক হাজারের বেশি কথিত ভুয়া বিয়ের অভিযোগ বিষয়টিকে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
একদিকে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার আশায় হাজারো অভিবাসী বছরের পর বছর অপেক্ষা করছেন, অন্যদিকে অর্থের বিনিময়ে আইনের পথকে পাশ কাটানোর এমন চেষ্টা পুরো অভিবাসন ব্যবস্থার ওপরই চাপ তৈরি করছে।






