বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তার নামে নিউ ইয়র্কে সড়ক

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারানো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের স্মৃতিকে স্থায়ীভাবে সম্মান জানাতে তার নামে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে।
শনিবার ব্রঙ্কসে ‘ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ নামের সড়কের নামফলক আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। বৃষ্টিপাত উপেক্ষা করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিউ ইয়র্ক সিটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) সদস্য, দিদারুলের পরিবারের সদস্য এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনওয়াইপিডির কমিশনার জেসিকা টিস। তিনি বললেন, ‘এই সড়ক এমন একজন মানুষের নাম বহন করবে, যিনি নিউ ইয়র্ককে নিজের শহর হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং সেই শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন।’
জেসিকা টিস আরও বলেছেন, ‘দিদারুল ইসলাম ছিলেন এমন একজন কর্মকর্তা, যার মতো সহকর্মী পেতে প্রতিটি কমান্ডিং অফিসার আগ্রহী থাকেন। তার সাহসিকতা ও নিষ্ঠা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
অনুষ্ঠানে দিদারুল ইসলামের স্ত্রী জামিলা ইসলাম তাদের তিন সন্তান—আহিয়ান, আজহান ও আরহামকে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন।
দিদারুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই ম্যানহাটনের পার্ক অ্যাভিনিউয়ের একটি বহুতল ভবনে বন্দুকধারীর হামলার সময় কর্তব্যরত ছিলেন। হামলাকারী নির্বিচারে গুলি চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে যান তিনি। হামলাকারীকে থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান ৩৬ বছর বয়সী এই পুলিশ কর্মকর্তা।
তার অসাধারণ সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে পরে তাকে মরণোত্তর ‘ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড’ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এরপর তার অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নিউ ইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ তার নামে একটি সড়কের নামকরণের সিদ্ধান্ত নেয়।
মৌলভীবাজারের সন্তান দিদারুল ইসলাম ২০০৪ সালে অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যান। ২০১৩ সালে তিনি নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগে যোগ দেন। কর্মজীবনের পাশাপাশি পরিবার নিয়ে তিনি ব্রঙ্কসেই বসবাস করতেন।




