সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন তারেক রহমান

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন তারেক রহমান। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন তিনি।
দীর্ঘ সময় পর বিএনপির চেয়ারম্যানকে একই সঙ্গে সরকারপ্রধান হিসেবে নিউইয়র্কে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি। সফরকে ঘিরে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
তারেক রহমানের সফরকে স্বাগত জানাতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে নেতাকর্মীদের নিউইয়র্কে আনতে নেওয়া হচ্ছে উদ্যোগ। তাকে স্বাগত জানাতে দলীয় পর্যায়ে একাধিক কর্মসূচি ও বড় আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সেক্রেটারি সাইদুর রহমান সাইদ বলেন, ‘তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ। দীর্ঘ সময় পর দলের চেয়ারম্যানকে সরকারপ্রধান হিসেবে নিউইয়র্কে পাওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।’
তবে শুধু সংবর্ধনা নয়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন প্রত্যাশার বিষয়ও সামনে আনতে চান দলটির নেতারা। প্রবাসীদের বিভিন্ন দাবি, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক, বিনিয়োগ, রেমিট্যান্স এবং দেশের সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আরও কার্যকর যোগাযোগের বিষয়গুলোও সফরকালে আলোচনায় আসতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ ভবনের সামনে বড় শান্তি সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সমাবেশে ব্যাপক লোকসমাগম নিশ্চিত করতে নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সফরকে সামনে রেখে উত্তর আমেরিকার বিএনপি নেতাদের মধ্যে চলছে ধারাবাহিক বৈঠক। ২৩ জুলাই থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১১টি সভায় সফরকেন্দ্রিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ও দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
দলীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। ২৫ সেপ্টেম্বর নাগরিক সংবর্ধনায় বক্তব্য দেওয়ারও কথা রয়েছে তার।
এই তিন দিনকে ঘিরে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক ও প্রবাসী মহলে তৈরি হয়েছে আলাদা আগ্রহ। বিশেষ করে জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে তার প্রথম বক্তব্য এবং এরপর প্রবাসী বাংলাদেশিদের নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি সফরের গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
রাষ্ট্রীয় দিক থেকেও সফরটি গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে বলেও মত সংশ্লিষ্টদের।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির জন্য এই সফর দলীয় রাজনীতির দিক থেকেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ সময় পর দলের চেয়ারম্যানকে সরকারপ্রধান হিসেবে নিউইয়র্কে সামনে পাওয়ার সুযোগকে ঘিরে নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস সাংগঠনিক তৎপরতাতেও নজরে পড়ছে।
সব মিলিয়ে তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সফর নয়, যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির রাজনীতির জন্যও একটি বড় রাজনৈতিক মুহূর্ত। স্বাগত আয়োজন, জনসংযোগ, জাতিসংঘের সামনে শান্তি সমাবেশ ও নাগরিক সংবর্ধনাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সেপ্টেম্বরের নিউইয়র্কে বিএনপির উপস্থিতি কতটা বড় আকার নেয়, এখন সেদিকেই সবার নজর।




