ইপসোস ও রয়টার্স জরিপ
আরও কমল ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় আরও কমেছে। নতুন এক ইপসোস/রয়টার্স জরিপে দেখা গেছে, তার কাজে সন্তুষ্ট মাত্র ৩৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। বিপরীতে ৬৪ শতাংশ মানুষ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদে এটিই তার সর্বনিম্ন জনপ্রিয়তার অবস্থান।
আগস্টের শুরুতেও এ হার ছিল ৩৫ শতাংশ। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে তা আরও ২ শতাংশ কমে ৩৩ শতাংশে নেমেছে। জরিপে অংশ নিয়েছেন ১ হাজার ১৬৬ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক।
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইরান যুদ্ধ এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব। জরিপে ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। মাত্র ২০ শতাংশ মনে করেন, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যে খরচ হচ্ছে তা সার্থক।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতি নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর অসন্তোষ বাড়ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি জরিপের ফল দিয়েই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার পুরো চিত্র ব্যাখ্যা করা যায় না। অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম এবং পররাষ্ট্রনীতিতে সামরিক সম্পৃক্ততা, সবকিছুই ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করছে।
একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেছেন, ‘মার্কিন ভোটারদের কাছে এখন পররাষ্ট্রনীতির চেয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানির দাম বা বাজারের খরচ বাড়লে তার রাজনৈতিক প্রভাব দ্রুত পড়ে।’
আরেক বিশ্লেষক বলেছেন, ‘ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ হলে ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে যুদ্ধের খরচ যদি সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে, তাহলে মধ্যবর্তী নির্বাচনে এর প্রভাব দেখা যেতে পারে।’
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার এই পতন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান পার্টির জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের ওপর ৩৮ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ওপর ৩৫ শতাংশ ভোটারের আস্থা রয়েছে। অভিবাসন ইস্যুতেও রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের সুবিধা কমে এসেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা আরও কমলে তার প্রভাব রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপরও পড়তে পারে। বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে কয়েক শতাংশ ভোটের পরিবর্তনও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইরান যুদ্ধ, জ্বালানির দাম, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপ মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এখন বাড়তি রাজনৈতিক চাপে রয়েছে। আগামী কয়েক মাসে ট্রাম্প এই জনসমর্থনের পতন ঠেকাতে পারেন কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।







