ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘খুবই ভালো বৈঠক হয়েছে’, জানালেন ট্রাম্প

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে পৌঁছালে এসকেলেটরে উঠছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিউ ইয়র্কে তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘এটি খুবই ভালো বৈঠক হয়েছে’। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি নিশ্চিত করেছেন, তার প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ইরানের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার প্রায় এক ঘণ্টা আগে বৈঠকটি শেষ হয়েছে বলে নিজেই জানিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সামনে এখন পুরোপুরি ধ্বংস অথবা সমৃদ্ধির পথ খোলা রয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘একটি হতে পারে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়া। আর অন্য বিকল্পটি হলো সম্ভাব্য মহত্ত্ব। দেশটি একটি মহান দেশ হতে পারে।’
বৈঠকে কারা অংশ নিয়েছেন জানতে চাইলে ট্রাম্প মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের কথা বলেছেন। উইটকফও বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।
সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ‘আমি এখন খুব ভালো অনুভব করছি।’ তিনি এই বৈঠককে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, ‘খুব শিগগিরই’ আরেকটি বৈঠক হবে। তবে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাননি তিনি।
ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বৈঠকে পাকিস্তান ও কাতার মধ্যস্থতা করেছে বলেও পত্রিকাটি জানিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও আরাগচি ও মার্কিন প্রতিনিধি উইটকফের বৈঠকের কথা নিশ্চিত করেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ না থাকার পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের আগে যোগাযোগ তুলনামূলকভাবে নিয়মিত ছিল। পরে উত্তেজনা বাড়ায় কূটনৈতিক তৎপরতা কমে যায়। তবে ইরান বারবার বলেছে, আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মার্কিন পক্ষের অনুরোধ ও জোরাজুরিতেই সর্বশেষ বৈঠকটি হয়েছে। বৈঠকে ইরানের বিভিন্ন বার্তা ও শর্ত তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়ে তেহরানের অবস্থান পরিবর্তন হয়নি বলে ইরানের সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে তেহরানের একটি নিরাপত্তা সূত্র আল-জাজিরাকে বলেছেন, ইরানের শর্ত ও দাবিগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করলে কূটনৈতিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এদিকে উইটকফ বলেছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের (ইউএনজিএ) ফাঁকে ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তার ‘দীর্ঘ আলোচনা’ হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে উইটকফ বলেছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তারা সারা দিন দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ চালিয়ে গেছেন।
তিনি বলেছেন, আলোচনার এই পর্ব ‘সফলভাবে শেষ’ হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীরা তাদের কাজ চালিয়ে যাবেন এবং এই আলোচনা ‘গঠনমূলক ও আশাব্যঞ্জক’ হবে বলে তিনি আশা করছেন।
সূত্র: আল জাজিরা ও রয়টার্স




