কিউবায় ৬.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

সংগৃহীত ছবি
পশ্চিম কিউবার উপকূলে ৬.১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
গতকাল সোমবার স্থানীয় সময় বিকালের দিকে অনুভূত এই ভূমিকম্পে কিউবার রাজধানী হাভানা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো পর্যন্ত দূরবর্তী অঞ্চলের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে।
ইউএস জিওলোজিক্যাল সার্ভের (ইউএসজিএস) তথ্যানুযায়ী, ভূমিকম্পটি রাজধানী হাভানার ঠিক পশ্চিমে সমুদ্রের ২৬ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে।
পশ্চিম কিউবার পিনার দেল রিও হোটেলের ম্যানেজার ফ্লাভিয়া পুপো টেলিফোনে ভূমিকম্পের মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, ভবনটি কেঁপে ওঠায় মানুষের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
‘এখানে সবাই ভালো আছেন। শুধু রাস্তার মানুষজন কিছুটা ভয় পেয়েছিলেন’, নিশ্চিত করেছেন ফ্লাভিয়া পুপো।
মিয়ামির ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস এক টুইট বার্তায় জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্লোরিডার চারপাশ কেঁপে ওঠার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট থেকে জানা যায়, ফ্লোরিডার উত্তর প্রান্তের অরল্যান্ডো পর্যন্ত মানুষ এই কম্পন অনুভব করেছে।
ডাউনটাউন ফোর্ট লডারডেলের একটি আইন সংস্থায় কর্মরত মারিয়া মনকায়ো জানালেন, তিনি ডেস্কে বসে শান্তভাবে কাজ করার সময় হঠাৎ একটি কম্পন অনুভব করেন। ভবনের অন্য কোথাও নির্মাণকাজ চলার মতো এই কম্পনটি প্রায় এক মিনিট স্থায়ী ছিল।
মনকায়ো বলেছেন, ‘আমার ডেস্কে একটি ছোট পেন্ডেন্ট ঝুলছিল এবং সেটি দুলছিল। তখনই আমি বুঝতে পারলাম যে এটি আমার বা চেয়ারের কোনো নড়াচড়া নয়, বরং ভূমিকম্প।’
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মিয়ামি ডেড কাউন্টির কর্মকর্তারা ডাউনটাউন মিয়ামির ২৮তলা সরকারি ভবনসহ বেশ কয়েকটি ভবন খালি করার নির্দেশ দেন। এ ছাড়া ডাউনটাউনের ওপর দিয়ে চলাচলকারী দুটি এলিভেটেড কমিউটার ট্রেনের সেবাও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
ইউএস জিওলোজিক্যাল সার্ভের ভূ-পদার্থবিদ উইলিয়াম বার্নহার্ট এই ভূমিকম্পটিকে অত্যন্ত বিরল বলে বর্ণনা করেছেন। ১৯৫০-এর দশক থেকে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার শুরু হওয়ার পর মেক্সিকো উপসাগরে রেকর্ড করা এটিই সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প।
বার্নহার্ট বলেছেন, ‘পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে আমাদের জানামতে ৫ বা তার বেশি মাত্রার যে পাঁচ-ছয়টি ভূমিকম্প হয়েছে, এটি তার একটি।
সূত্র : এপি





