সেনাদের অবস্থান ফাঁসের শংকায় বিজ্ঞাপন ট্র্যাকার বন্ধ করল মার্কিন বাহিনী

প্রায় দুই মাস আগে তাদের কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনে থাকা বিজ্ঞাপন শনাক্তকারী ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের অবস্থান বাণিজ্যিক তথ্যের মাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সামরিক ডিভাইস থেকে বিজ্ঞাপন ট্র্যাকার বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য সামনে আসে। একই দিনে সিনেটর রন উইডেনের প্রকাশ করা চিঠিতেও মার্কিন সামরিক বাহিনীর নেওয়া এসব পদক্ষেপের তথ্য প্রকাশ পায়।
মার্কিন বিমানবাহিনী জানিয়েছে, প্রায় দুই মাস আগে তাদের কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনে থাকা বিজ্ঞাপন শনাক্তকারী ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। বিশেষ অভিযান কমান্ডও সম্প্রতি উইন্ডোজভিত্তিক সামরিক যন্ত্রগুলোতে একই ব্যবস্থা নিয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মোবাইল ডিভাইসের বিজ্ঞাপন শনাক্তকারী চলতি বছরের শুরুর দিক থেকেই বন্ধ রয়েছে।
এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে আরও বড় নিরাপত্তা উদ্বেগ। মোবাইল বিজ্ঞাপন শনাক্তকারীকে সাধারণত ‘মেইড’ বলা হয়। একটি নির্দিষ্ট ডিভাইসের অ্যাপ ব্যবহারের তথ্য ও অবস্থান শনাক্ত করতে পারে। বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলো এসব তথ্য সংগ্রহ করে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা সেনাদের অবস্থানও বাণিজ্যিক তথ্যের মাধ্যমে শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
মার্কিন সিনেটর রন উইডেন দীর্ঘদিন ধরে পেন্টাগনের কাছে এ বিষয়ে জবাবদিহি দাবি করে আসছেন। শুক্রবার প্রকাশিত চিঠিতে সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখা তাদের নেওয়া নিরাপত্তা পদক্ষেপের কথা জানায়। তবে উইডেনের অভিযোগ, এসব ব্যবস্থা এখনো হুমকিটি পুরোপুরি ঠেকাতে পারেনি।
উত্তর ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান প্যাট হারিগানও পেন্টাগনের প্রতি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, কোনো মার্কিন সেনার অবস্থান শনাক্ত করতে শত্রুপক্ষের হাতে শুধু একটি ক্রেডিট কার্ড থাকাই যথেষ্ট হওয়া উচিত নয়।
এরই মধ্যে সামরিক বাহিনী মোবাইল ফোন ব্যবহারে আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
জুলাইয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন কিছু মার্কিন সেনাকে ফোন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে। অনলাইনে সেনাদের প্রকাশ করা ভিডিও থেকে মার্কিন ঘাঁটির অবস্থান শনাক্ত করে ইরান হামলা চালাতে পারে, এমন আশঙ্কাই এর অন্যতম কারণ।
গোপনীয়তা বিশেষজ্ঞ জ্যাক এডওয়ার্ডস বলেন, সামরিক ডিভাইসে এই শনাক্তকারী বন্ধ করা ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, অন্য প্রযুক্তিগত তথ্য, নেটওয়ার্ক সংযোগ ও অবস্থানসংক্রান্ত সংকেত মিলিয়েও সেনাদের গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
অর্থাৎ, বিজ্ঞাপন ট্র্যাকার বন্ধ হলেও মার্কিন সেনাদের ডিজিটাল অবস্থান-নিরাপত্তার ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্যের বাণিজ্যিক ব্যবহার কতটা বড় জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি হয়ে উঠেছে, নতুন এই পদক্ষেপ সেটিই সামনে আনল।
সূত্র: রয়টার্স





