কূটনীতির ইতিহাসে নতুন অধ্যায়
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রথম নারী প্রধান লিন্ডি ক্যামেরন

ভারতে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার লিন্ডি ক্যামেরন হচ্ছেন ব্রিটিশ ফরেন অফিসের প্রথম নারী স্থায়ী সচিব।
ব্রিটিশ কূটনীতির ইতিহাসে তৈরি হল নতুন অধ্যায়। প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) শীর্ষ আমলা হিসেবে দায়িত্ব পেলেন এক নারী। ভারতে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার লিন্ডি ক্যামেরন হচ্ছেন ব্রিটিশ ফরেন অফিসের প্রথম নারী স্থায়ী সচিব।
বৃহস্পতিবার দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যামেরন বর্তমান স্থায়ী সচিব স্যার অলি রবিন্সের স্থলাভিষিক্ত হবেন। পিটার ম্যান্ডেলসনকে ঘিরে নিরাপত্তা যাচাই বিতর্কের পর রবিন্সকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ব্রিটিশ সরকার।
লিন্ডি ক্যামেরনের কর্মজীবনজুড়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন, জাতীয় নিরাপত্তা ও সংকট ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা। তিনি আগে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের প্রধান নির্বাহী ছিলেন। এর আগে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড অফিস ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন দপ্তরেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ক্যামেরনের নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, তার রয়েছে “কূটনীতি, উন্নয়ন ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অসাধারণ অভিজ্ঞতা” এবং বিশ্বজুড়ে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি “গতিশীল নেতৃত্বের” পরিচয় দিয়েছেন। মিলিব্যান্ড বলেছেন, তার নেতৃত্বে ফরেন অফিস “ব্রিটিশ মূল্যবোধ ও স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।”
ক্যাবিনেট সচিব অ্যান্টোনিয়া রোমিও বলেছেন, ক্যামেরনের “নিরাপত্তা ও কূটনীতিতে অসাধারণ রেকর্ড” রয়েছে, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন নিয়েও তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আছে।
ক্যামেরনের নিয়োগ এমন এক সময়ে এল, যখন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। বাজেট কমানো, কর্মী ছাঁটাই এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা খাতে পরিবর্তনের কারণে দপ্তরের ভেতরে চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ম্যান্ডেলসন কাণ্ড ঘিরে ফরেন অফিসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নিয়োগের পর তার নিরাপত্তা যাচাই নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মন্ত্রীদের কাছে পুরোপুরি পৌঁছায়নি। সেই ঘটনার জেরেই রবিন্সের বিদায় এবং নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন তৈরি হয়।
লিন্ডি ক্যামেরন আগামী দিনে ব্রিটেনের কূটনৈতিক নীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন। তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ, পরিবর্তনশীল বিশ্ব রাজনীতিতে ব্রিটেনের প্রভাব ধরে রাখা এবং সংকটের মধ্যে ফরেন অফিসকে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়া।



