হামাস হামলার স্মরণবার্তায় ‘ইহুদি’ শব্দ নেই, বিতর্কে মামদানি
- নিহত ও অপহৃতদের স্মরণের পর গাজা যুদ্ধ নিয়ে কঠোর অবস্থান!

ফাইল ছবি
হামাসের ৭ অক্টোবর ২০২৩-এর হামলার আজ বার্ষিকী। এ উপলক্ষে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি স্মরণবার্তা দিয়েছেন। নিহত ও অপহৃত ইসরায়েলিদের স্মরণের পাশাপাশি গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার সমালোচনা করায় তার বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
মামদানি বলেন, ৭ অক্টোবরের হামলায় ১ হাজার ১০০-এর বেশি ইসরায়েলি নিহত এবং ২৫১ জন অপহৃত হন। নিহতদের পরিবার ও অপহৃতদের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।
এরপরই গাজা যুদ্ধের প্রসঙ্গ তোলেন মমদানি। ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডকে ‘চলমান গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি ও মানবিক সংকটের কথা বলেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তারও সমালোচনা করেন তিনি।
বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে আরেকটি বিষয়—মমদানির স্মরণবার্তায় ‘ইহুদি’ শব্দটির অনুপস্থিতি। অ্যান্টি-ডিফেমেশন লীগের প্রধান নির্বাহী জোনাথন গ্রিনব্লাট প্রশ্ন তুলেছেন, নিউইয়র্কের মতো বড় ইহুদি জনগোষ্ঠীর শহরের মেয়রের ৭ অক্টোবরের বার্তায় ইহুদিদের পরিচয় কেন নেই।
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান জ্যারেড মস্কোভিটজও মামদানির বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। সমালোচকদের দাবি, নিহত ও অপহৃতদের স্মরণের চেয়ে বিবৃতিতে গাজা যুদ্ধ ও ইসরায়েলের সমালোচনাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে মমদানি হামলার শিকারদের উপেক্ষা করেছেন—এমন দাবি পুরোপুরি সঠিক নয়। তিনি নিহত ও অপহৃতদের সংখ্যা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং তাদের পরিবারের প্রতি শোক জানিয়েছেন। আপত্তির মূল জায়গা হলো, এরপরের দীর্ঘ অংশে গাজা যুদ্ধকে যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং ‘ইহুদি’ শব্দটি একবারও ব্যবহার করা হয়নি।
মামদানির সমর্থকদের বক্তব্য, ৭ অক্টোবরের হামলার শিকারদের স্মরণের পাশাপাশি গাজায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগের কথাও বলা প্রয়োজন। সমালোচকেরা বলছেন, স্মরণবার্তাটি শোক প্রকাশের সীমা ছাড়িয়ে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে রাজনৈতিক অবস্থানের বার্তায় পরিণত হয়েছে।
৭ অক্টোবর ২০২৩-এর হামলার বার্ষিকীতে মমদানির এই বক্তব্য তাই নিউইয়র্কে শোকের পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক বিতর্কও উসকে দিয়েছে।



