এআই নিয়ন্ত্রণে নিজ দেশেই বিপদে ট্রাম্প

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ধীরে ধীরে দখল করে নিচ্ছে বিশ্ব। ধ্বংস করছে মানবতা। মানবজাতিকে বাঁচাতে শিগগির টেনে ধরতে হবে এর অগ্রগতির রাশ— খোদ এআই নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোই দিচ্ছে এমন সতর্কবার্তা। এআই খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা টানতে চাইছেন এআইয়ের উন্নয়নের লাগাম। ঠিক তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করছেন, এআই নিয়ে এসব বক্তব্য আসলে গুজব। সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলছেন, এআইর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। তবু পার পাচ্ছেন না ট্রাম্প। বরাবরের মতো এআই নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতেও তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে বিরোধী শিবির ডেমোক্রেটিক পার্টি। গার্ডিয়ান।
গত সোমবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডল ট্রুথ সোশ্যালে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একমাত্র নিয়ন্ত্রণ বা নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রয়োজন, তা হলো একজন শক্তিশালী এবং উচ্চ আইকিউ সম্পন্ন প্রেসিডেন্ট এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তা প্রচুর পরিমাণে রয়েছে!’
সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার নিয়ে শঙ্কার কথা বলেছেন এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রোপিক’-এর সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সন। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, এখনই এআইর অগ্রগতির রাশ টেনে না ধরলে ভবিষ্যতে তা শেষ করে দিতে পারে মানবজাতিকে। একই সময়ে অ্যানথ্রোপিকের প্রধান দারিও আমোদেইও এআইর গতি ধীর করার আহ্বান জানিয়েছেন।
কিন্তু ট্রাম্প এআইর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সরকারি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে রাজি নন। তার এই মতের সঙ্গে মিলছে না মার্কিন কংগ্রেসের শীর্ষ ডেমোক্র্যাটদের মত। এআই খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই দলের সদস্যরাও এআইর ঝুঁকিগুলো স্বীকার করে নিচ্ছেন এবং দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই এআই নিয়ন্ত্রণে আইন বা প্রবিধান বেঁধে দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন। কিন্তু অন্য অনেক বিষয়ের মতো এক্ষেত্রে কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতকে পাশ কাটিয়ে যেতে চাইছেন ৮০ বছর বয়সী মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ভার্জিনিয়ার ডেমোক্রেট কংগ্রেস সদস্য ডন বেয়ার বললেন, ‘তিনি মনোযোগ দিচ্ছেন না, অথবা ভুল মানুষের কথা শুনছেন। তিনি সত্যিই বোকামি করছেন। অবশ্য এটিই তার প্রথম বোকামি নয়; কিন্তু হয়তো মারাত্মক বোকামি।’
সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের প্রোগ্রাম ফর পাবলিক কনসালটেশনের এক জরিপে দেখা গেছে— ৮৫ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৭৯ শতাংশ রিপাবলিকান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন একটি ফেডারেল এজেন্সি চান। একই সঙ্গে ৮২ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ও ৭৮ শতাংশ রিপাবলিকান মনে করেন, যেসব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেগুলোকে আগে সরকারি নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
অবশ্য ঠিক কীভাবে এআই নিয়ন্ত্রণ করা হবে বা কতদূর নিয়ন্ত্রণ করা হবে, সেটি এখনো নিশ্চিত নন রাজনীতিবিদরা। অনেকেই আবার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, এই মুহূর্তে এআইর বিকাশ থামিয়ে দিলে এ খাতে এগিয়ে যেতে পারে চীন, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হতে পারে নেতিবাচক।
তবে শিগগির যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এআই নিরাপত্তা আইন পাস হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। কেননা, দেশটিতে কোনো বিলকে আইনে পরিণত হতে হলে একে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সিনেট— দুকক্ষেই পাস হতে হয়। এখন এআইর ওপর নতুন কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির ক্ষেত্রে ট্রাম্প তীব্র বিরোধিতা করলে উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকান পার্টি তাদের নেতার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ বা সরকারি নিয়ন্ত্রণকে সমর্থন করবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। আর যদি তারা বিরোধিতা করেনও, তবু পাস হওয়া যেকোনো বিল কার্যকর করতে হলে প্রয়োজন হবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সই।
অবশ্য গত সোমবার কংগ্রেসের স্পিকার জনসন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, শিগগির এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে বৈঠক করবেন ট্রাম্প। যেখানে নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য কোম্পানিগুলোর দায়িত্ব কী এবং সেক্ষেত্রে সরকারের কোনো ভূমিকা থাকলে তা কী হতে পারে— সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
সেই বৈঠকে কী আলোচনা হবে বা আদৌ বৈঠক হবে কি না, তা নিশ্চিত না হলেও ওপেন এআইর সিইও স্যাম অল্টম্যান, গুগল ডিপমাইন্ডের প্রধান ডেমিস হাসাবিস এবং এক্স-এআইর মালিক ইলন মাস্ক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ধীর করার বিষয়ে আমোদেইর প্রস্তাবের সমর্থন করেছেন। তারা গতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও একমত।



