যুক্তরাজ্যে মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত বেড়ে ২০

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কেন্ট এলাকায় মেনিনজাইটিসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএইচএসএ)।
প্রাদুর্ভাবটি মূলত কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এই প্রাদুর্ভাবে দুই তরুণের মৃত্যু হয়েছে। তাদের একজন ২১ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী এবং অন্যজন ১৮ বছর বয়সী ফেভারশামের কুইন এলিজাবেথ’স গ্রামার স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন।
ইউকেএইচএসএ জানিয়েছে, ১৭ মার্চ বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৯টি সংক্রমণ পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে। এ ছাড়া আরও ১১ জন সন্দেহভাজন রোগীর বিষয়ে তদন্ত চলছে। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ২০।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং মঙ্গলবার পার্লামেন্টে বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং বর্তমানে ১৫টি কেস তদন্তাধীন। তিনি জানান, মেনিনজাইটিস ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়াতে পারে।
তদন্তে দেখা গেছে, সংক্রমণের বিস্তার শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং ক্যান্টারবারির একটি নাইটক্লাবের সঙ্গে এর যোগসূত্র পাওয়া গেছে।
নিশ্চিত হওয়া ছয়টি ক্ষেত্রে গ্রুপ বি মেনিনগোকোকাল সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যাকটেরিয়াজনিত ধরনটি তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও এটি ভাইরাসজনিত মেনিনজাইটিসের চেয়ে বেশি প্রাণঘাতী।
এদিকে, ফোকস্টোন এলাকায় একটি শিশুকন্যার শরীরেও গ্রুপ বি মেনিনগোকোকাল সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই ঘটনাটি চলমান প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক টিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধমূলক অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের জন্য ক্যাম্পাসে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন।
বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়েস স্ট্রিটিং বলেছেন, ‘কর্তৃপক্ষ সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। রোগটি অত্যন্ত গুরুতর হলেও সামগ্রিক ঝুঁকি এখনো কম।’

