তীব্র তাপপ্রবাহে ফ্রান্স জুড়ে দাবানল, পুড়েছে ৮০০ হেক্টরের বেশি বনাঞ্চল

প্যারিসের দক্ষিণের ফঁতেনব্লো বনে ছড়িয়ে পড়া দাবানল। ছবি: সংগৃহীত
তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে বড় ধরনের দাবানল। সবচেয়ে ভয়াবহ আগুন লেগেছে প্যারিসের দক্ষিণে অবস্থিত ফঁতেনব্লো বনে। সেখানে এখন পর্যন্ত পুড়ে গেছে ৮০০ হেক্টরের বেশি বনাঞ্চল। শত শত দমকলকর্মী ও উড়োজাহাজ আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও সোমবার বিকাল পর্যন্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় প্রশাসন বলছে, রবিবার বিকালে দুটি পৃথক স্থানে সূত্রপাত হয় আগুনের। পরে আগুন দুটি একত্রিত হয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের বনাঞ্চলে এবং অগ্রসর হয় তিনটি শহরের দিকে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে শুরুতে ৮০০-র বেশি দমকলকর্মী মোতায়েন করা হয়। সোমবার বিকালেও প্রায় ৩০০ জন দমকলকর্মী আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পাশাপাশি আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছে চারটি অগ্নিনির্বাপণ উড়োজাহাজ।
প্রশাসনের ভাষ্য, আগুন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। কিছু এলাকায় তা ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত বনাঞ্চলের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে রয়েছে আশঙ্কা। তবে এখন পর্যন্ত আগুনে কোনো বাসিন্দা, দমকলকর্মী বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য হতাহত হননি। সোমবার নতুন করে আরও একটি স্থানে আগুন লাগার ঘটনাও শনাক্ত হয়েছে।
এদিকে ব্রিতানি অঞ্চলের ক্যাপ ফ্রেহেল এলাকাতেও দাবানলে পুড়ে গেছে প্রায় ৩৫ হেক্টর ঝোপঝাড় ও বনাঞ্চল। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রায় ১১০ জন বাসিন্দাকে তাদের বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর আগে একটি পর্যটক শিবির থেকেও ১২৭ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ।
ফরাসি দমকল বিভাগ জানিয়েছে, বৃষ্টিপাতের কারণে কিছুটা উন্নতি হয়েছে পরিস্থিতির। তবে শুকনো গাছপালা থাকায় রয়েছে আবারও আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি। দুর্গম ভূখণ্ড হওয়ায় কঠিন হয়ে পড়েছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজও।
দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের লো-এ-গারোন প্রশাসনিক এলাকায় বজ্রপাতের পর সৃষ্ট দাবানলে পুড়ে গেছে ১৯৩ হেক্টর বনাঞ্চল। সেখানে ২০০-র বেশি বাসিন্দাকে সাময়িকভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় একজন দমকলকর্মী সামান্য আহত হয়েছেন। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে বাসিন্দারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান।
ফরাসি আবহাওয়া বিভাগ এরই মধ্যে দেশের কয়েকটি এলাকায় তাপপ্রবাহের জন্য কমলা সতর্কতা জারি করেছে। অতিরিক্ত গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বনাঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জনসাধারণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।




