জাতিসংঘ ও ডব্লিউএমও’র সতর্কবার্তা
এবারের ‘সুপার এল নিনো’ হতে পারে আরও শক্তিশালী

এল নিনোর প্রভাবে বাড়তে পারে খরা। ছবি: সংগৃহীত
কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন ‘এল নিনো’ আবহাওয়ার ধাপ শুরু হতে পারে এবং এটি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ ও বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই প্রাকৃতিক আবহাওয়াব্যবস্থা বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ডব্লিউএমও মঙ্গলবার জানায়, ২০২৬ সালের বাকি সময়জুড়ে এল নিনো আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কয়েকটি দেশের আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস বলছে, এটি ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’তে পরিণত হতে পারে।
সংস্থাটি বলেছে, এল নিনো হলো মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রার একটি পর্যায়ক্রমিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, যা সাধারণত ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হয়। সাম্প্রতিক সময়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ার প্রবণতা এই অবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, ‘আমাদের একটি সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হতে হবে, যা খরা ও ভারী বৃষ্টিপাতকে আরও বাড়িয়ে দেবে এবং স্থল ও মহাসাগর উভয় ক্ষেত্রেই তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বৃদ্ধি করবে।’
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, এর প্রভাবে অস্ট্রেলিয়া, মধ্য আমেরিকা, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে দেখা দিতে পারে খরা। একই সময়ে মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে বাড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় বা হারিকেনের ঝুঁকি।
বিশ্বজুড়ে এই আবহাওয়াব্যবস্থা কখনো কোথাও খরা, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চল, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল, হর্ন অব আফ্রিকা এবং মধ্য এশিয়ার কিছু অংশে বৃষ্টিপাত বেড়ে যেতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ডব্লিউএমও জানিয়েছে, ২০২৩–২৪ সালের এল নিনো ২০২৪ সালকে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে রেকর্ড গড়তে ভূমিকা রেখেছিল। নতুন এই ধাপ শুরু হলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংস্থাটির মহাসচিব সাউলো আরও বলেন, ‘প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ ইতিমধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবায়ু সংকটগুলোর একটি। এল নিনো সেই হুমকিকে আরও তীব্র করতে পারে, ফলে তাপজনিত অসুস্থতা, রোগবিস্তার এবং খাদ্য ও পানির ওপর চাপ বাড়বে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, সংকটে থাকা জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে।
তবে ডব্লিউএমও জানিয়েছে, এল নিনোর তীব্রতা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে, কারণ কিছু মডেলে শক্তিশালী প্রভাবের পূর্বাভাস পাওয়া যায়নি।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই পরিস্থিতিকে জরুরি জলবায়ু সতর্কতা হিসেবে দেখা উচিত। তিনি বলেন, ‘উষ্ণ হতে থাকা বিশ্বে এল নিনো আগুনের ওপর ঘি ঢালার মতো কাজ করতে পারে।’





