ট্রাম্পের আল্টিমেটাম ঘিরে উত্তেজনা
হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে লন্ডনে বসছে বৈঠক

বিশ্ব তেল বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী । ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালী সচল রাখতে ইরানকে সময় বেঁধে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সময়সীমা ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। এতে থাকবেন মিত্রদেশের সামরিক কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার (ওয়াশিংটন সময়) সন্ধ্যার মধ্যে ইরানকে এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের অবরোধ তুলে নিতে সতর্ক করলেন ট্রাম্প। তা না হলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তেহরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার ইঙ্গিত দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের কাছে হয়েছে ব্যাপক সমালোচিত।
তবে যুক্তরাজ্য সরকারের স্পষ্ট বার্তা, তারা অংশ নেবে না ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে।
জানা গেছে, লন্ডনের নর্থউডে অবস্থিত ব্রিটেনের পার্মানেন্ট জয়েন্ট হেডকোয়ার্টার্সে হবে বৈঠকটি। সেখানে মিত্রদেশগুলোর সামরিক পরিকল্পনাবিদরা আলোচনা করবেন সংঘাত-পরবর্তী হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে।
বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি কার্যত অবরুদ্ধ সংঘাত শুরুর পর থেকে। এতে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে।
জোরদার করা হয়েছে কূটনৈতিক তৎপরতাও। সম্প্রতি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের সভাপতিত্বে ৪০টির বেশি দেশের অংশগ্রহণে এক বৈঠকে আলোচনা হয় ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর বিষয়ে।
তবে প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা কম। কারণ বর্তমানে তেহরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।
এদিকে ন্যাটোসহ যুক্তরাজ্যের মতো মিত্রদের সমালোচনা করলেন ট্রাম্প। তার দাবি, তেহরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপে সমর্থন দিচ্ছে না মিত্ররা। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ প্রসঙ্গেও ফের মন্তব্য করলেন তিনি। আর তাতে পশ্চিমা জোটের ভেতরে টানাপোড়েন হয়েছে আরও স্পষ্ট।

