আর্টেমিস-২-এ তোলা বিরল ছবি: এক ফ্রেমে পৃথিবী ও সূর্যগ্রহণ

সংগৃহীত ছবি
নাসা আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীদের তোলা চাঁদের পাশ দিয়ে উড্ডয়নের সময়ের প্রথম ছবিগুলো প্রকাশ করেছে।
প্রথম ছবিতে দেখা যায় ‘আর্থসেট’—চাঁদের গর্তভরা পৃষ্ঠের আড়াল থেকে আমাদের পৃথিবী যেন ধীরে ধীরে উঁকি দিচ্ছে।
দ্বিতীয় ছবিটি আরও চমকপ্রদ। এতে ধরা পড়েছে এক অসাধারণ সূর্যগ্রহণের দৃশ্য, যখন চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দেয়।
তবে পৃথিবীতে ফেরার পথে থাকা চার নভোচারীর মধ্যে ঠিক কে এই ছবিগুলো তুলেছেন, তা জানায়নি নাসা।
এই ‘আর্থসেট’ ছবিটি ১৯৬৮ সালে অ্যাপোলো-৮ মিশনে বিল অ্যান্ডার্সের তোলা ঐতিহাসিক ‘আর্থরাইজ’ ছবির কথা মনে করিয়ে দেয়, যা পরের বছর প্রথম মানব চন্দ্র অবতরণের আগে তোলা হয়েছিল।
মহাশূন্যের অন্ধকারে ভাসমান নীল পৃথিবীর সেই দৃশ্য এখনো ইতিহাসের অন্যতম প্রতীকী ও শক্তিশালী ছবি হিসেবে বিবেচিত।
নভোচারীরা প্রায় ছয় ঘণ্টার উড্ডয়ন পর্বে এসব ছবি তোলেন। এই সময়ের একটি অংশে তারা চাঁদের আড়ালে থাকায় পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।
নাসা জানায়, ‘আর্থসেট’ ছবিটি ওরায়ন মহাকাশযানের জানালা দিয়ে স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটে তোলা হয়।
তাদের বর্ণনায় বলা হয়, ‘পৃথিবীর যে অংশটি অন্ধকার, সেখানে তখন রাত ছিল। আর দিনের অংশে অস্ট্রেলিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের ওপর ঘূর্ণায়মান মেঘ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল।’
ছবির সামনের অংশে থাকা ‘ওহম’ গহ্বরটির প্রান্ত ধাপের মতো এবং মাঝখানে উঁচু অংশ রয়েছে, যা বড় আঘাতে তৈরি জটিল গহ্বরের বৈশিষ্ট্য।
এই অসাধারণ যাত্রার মধ্যেও নভোচারীদের জন্য সবচেয়ে স্মরণীয় ছিল সূর্যগ্রহণের দৃশ্যটি। ছবিতে দেখা যায়, চাঁদের চারপাশে সূর্যের করোনা ঝলমল করছে। পৃথিবী থেকে সূর্যগ্রহণ খুব অল্প সময়ের জন্য দেখা গেলেও, ওরায়নের অবস্থানের কারণে নভোচারীরা প্রায় ৫৪ মিনিট ধরে এই পূর্ণ গ্রহণ উপভোগ করেছেন।
ছবির বাম পাশে উজ্জ্বল বিন্দুটি হলো শুক্র গ্রহ।
নভোচারী ভিক্টর গ্লোভার এই দৃশ্যকে ‘বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মতো’ এবং ‘অবিশ্বাস্য’ বলে বর্ণনা করেন।
তার ভাষ্য, ‘এটা এখনো অবিশ্বাস্য লাগছে। সূর্য চাঁদের আড়ালে, কিন্তু করোনার আলো চারদিকে ছড়িয়ে আছে—প্রায় পুরো চাঁদের চারপাশে আলোর বলয় তৈরি হয়েছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘পৃথিবীটা এত উজ্জ্বল দেখাচ্ছে, আর চাঁদ যেন আমাদের সামনে ভেসে আছে।’
১৯৭২ সালের পর থেকে স্যাটেলাইট চাঁদের অদেখা পাশের অসংখ্য ছবি তুলেছে, তবে নাসার মতে, নভোচারীদের নিজের চোখে এই দৃশ্য দেখার অভিজ্ঞতার মূল্য আলাদা।
ক্রুরা যা দেখেছেন, তার অডিও বর্ণনাও রেকর্ড করেছেন। নাসার বিজ্ঞানীরা এখন সেসব বিশ্লেষণ করে নতুন তথ্য পাওয়ার আশা করছেন।
আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, চাঁদের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসার পর আবার দৃষ্টিতে ধরা দেয় পৃথিবী—একটি নতুন ‘আর্থরাইজ’।














