হামের টিকা মজুদ থাকলেও দিতে পারছে না সিটি করপোরেশন
- টিকা মজুদ, তবুও শিশুরা পাবে ৫ দিন পর

সারা দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকলেও এখনো শুরু হয়নি বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ মোট চার সিটিতে এই ক্যাম্পেইন শুরু হবে আগামী ১২ এপ্রিল।
অথচ ঢাকার দুই সিটিতে যে পরিমাণ টিকা মজুদ আছে তা দিয়ে আগেই শুরু করা যেত ক্যাম্পেইন। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আর সিটি করপোরেশনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব পিছিয়ে গেছে এই কার্যক্রম। মিটিংয়ে শুরুতে তাদের বাদ রেখেছিল মন্ত্রণালয়। পরে অবশ্য শেষের দিকে যুক্ত করা হয় সিটি করপোরেশনকে।
আগামীর সময়ের সঙ্গে কথা হয় ডিএনসিসির এক কর্মকর্তার। তার কাছে জানা গেল, ঈদের আগেই হামের প্রাদুর্ভাব আঁচ করতে পেরেছিল উত্তর সিটি করপোরেশন। বিষয়টি জানানো হয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কেও। কিন্তু তখন এটিকে মন্ত্রণালয় ‘হালকাভাবে’ নিয়েছিল, দাবি এই কর্মকর্তার।
সিটি করপোরেশনে সবসময়ই অন্তত এক মাসের হামের টিকা মজুদ থাকে বলে জানালেন ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী।
তাহলে কেন এই টিকার ব্যবহার শুরু হয়নি তা জানতে চাইলে আগামীর সময়কে তিনি জানালেন, ‘দৈনন্দিন টিকা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আমাদের টিকা মজুদ আছে। এই টিকা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া আমরা বিশেষ ক্যাম্পেইনে ব্যবহার করতে পারি না।’
আবার ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান বলছেন, দক্ষিণ সিটিতে হামের রোগীর সংখ্যা কম।
তার ভাষ্য, যেহেতু রোগীর সংখ্যা কম টিকা দেওয়া নিয়ে এত তাড়াহুড়োর কিছু নেই। তাছাড়া বিশেষ ক্যাম্পেইনে অনেক বেশি টিকার প্রয়োজন, এক মাসের মজুদ টিকা দিয়ে সেটা পূরণ করাও সম্ভব নয়।
হাম নিয়ে যখন দেশের অভিভাবকরা বিপর্যস্ত, দুশ্চিন্তায় পার করছেন প্রতিটি দিন। তখন বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে বারবারই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার টিকা নিয়ে বিশদ পরিকল্পনা করেনি। তাই এই কর্মসূচিও যে খুব ফলপ্রসূ হবে সেটাও বলা যাচ্ছে না।
আগামীর সময়ের পক্ষ থেকে কথা হয় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদের সঙ্গে। তিনি অনেকটা ব্যঙ্গ করেই বলছিলেন, ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় না থাকলেই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম আরও ভালো চলত।’
এই চিকিৎসকের মতে, যেহেতু বিশেষ ক্যাম্পেইনে সব শিশুকেই টিকার আওতায় আনা হবে। তাই এই সময় হামের দৈনিক টিকা কার্যক্রম বন্ধ রাখলেও ক্ষতি ছিল না। বরং ওই টিকাগুলোকেও বিশেষ ক্যাম্পেইনে ব্যবহার করলে আরও বেশি শিশুকে আরও দ্রুত টিকার আওতায় আনা যেত।














