যুদ্ধবিরতি বাড়াতে খসড়া চুক্তিতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

সংগৃহীত ছবি
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো ও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে নতুন একটি খসড়া চুক্তিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
চুক্তির আওতায় রাখা হয়েছে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর প্রস্তাব। তবে এখনো দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি এটি।
উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার খবরের মধ্যেই এল এই সমঝোতার তথ্য। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বলছে, ওই অঞ্চলে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তারা। এর আগে বুধবার রাতে দক্ষিণ ইরানে নতুন করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। গত কয়েক দিন ধরে একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে দুই দেশ।
বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারকের ১৪ দফার কিছু অংশ প্রকাশ করা হয়। এতে জানানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার দাবি। পাশাপাশি উল্লেখ রয়েছে ইরান ও ওমানের নিয়ন্ত্রণাধীন হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার কথাও। এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন হয় বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস। তবে এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে সেই খসড়া স্মারককে ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউস।
গত সপ্তাহের শেষ দিকে আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছিল দুই পক্ষই। ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে দুই দেশ। যদিও এর আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।
বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, এগিয়ে চলছে আলোচনা। তবে তার ভাষ্য, ইরানের প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং আরও কাজ বাকি রয়েছে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজন হলে বিবেচনায় রয়েছে সামরিক বিকল্পও। গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানে নতুন বিমান হামলার নির্দেশ দেওয়ার খুব কাছাকাছি গিয়েছিলেন তিনি। তবে মিত্র দেশগুলোর অনুরোধে সরে এসেছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাব করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে অথবা যৌথভাবে তা কম ঘনত্বে রূপান্তর করতে পারে। প্রথম এই খসড়া চুক্তির তথ্য প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পকে এ বিষয়ে ব্রিফ করা হলেও তাৎক্ষণিক অনুমোদন দেননি এবং সিদ্ধান্ত নিতে কয়েক দিন সময় চাইছেন তিনি।
মার্কিন সূত্রগুলো অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করেছে, যা কূটনৈতিক অঙ্গনে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, দীর্ঘ ছয় সপ্তাহের টানাপোড়েনের পর দুই দেশ এখন সমঝোতার সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌযান চলাচলের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে ওই জলপথ থেকে মাইন অপসারণের জন্য ইরানকে ৩০ দিন সময় দেওয়া হবে। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে।
হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে সরাসরি কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। ‘প্রেসিডেন্টের আগে কোনো মন্তব্য করা সবসময়ই ভুল সিদ্ধান্ত। সবকিছুই নির্ভর করছে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের ওপর।’
সম্ভাব্য শান্তি চুক্তিতে ইরানের জন্য কোনো পুনর্গঠন পরিকল্পনা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘অন্য কিছু ভাবার আগে আমাদের প্রথমে চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।’






