হাম আতঙ্কে জরুরি অবস্থা নিউ ইয়র্কে

সংগৃহীত ছবি
হামমুক্ত আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়েছে হামের আতঙ্ক। প্রায় এক দশক পর যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রথম হামের কারণে মৃত্যুর খবর এলো। পেনসিলভানিয়ায়ই মারা গেছেন পাঁচজন। কয়েক হাজার আমেরিকান আক্রান্ত। এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় নিউ ইয়র্কে দুর্যোগকালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। স্টেট গভর্নর ক্যাথি হোকুল বলেছেন, টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য কোনো হাম রোগে কারও গুরুতর অসুস্থ হওয়া বা মারা যাওয়া উচিত নয়। এটি টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য। তিনি আরও বলেছেন, ৩ অক্টোবর পর্যন্ত নিউ ইয়র্কে হামে আক্রান্ত ১০৮ জনের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। গত সোমবার ঘোষিত জরুরি ঘোষণাটি ৪ নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রধানও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের টিকাবিষয়ক পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। এমনকি রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি ট্রাম্প প্রশাসনের টিকাদান নীতিকে দায়ী করেছেন এই রোগের প্রাদুর্ভাবের জন্য। অথচ এই প্রতিরোধযোগ্য রোগটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় নির্মূল হয়ে গিয়েছিল।
পেনসিলভানিয়ায় হামের এক মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এ বছর ৯৭৫ জনেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এই প্রাদুর্ভাবের ফলে রাজ্যের অন্তত ৫০ জন অন্তঃসত্ত্বা নারীও আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত এলাকাগুলোর চিকিৎসকরা অন্তঃসত্ত্বা ও তাদের শিশুদের সেবা প্রদানের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছেন।
২০২৫ সালে হামের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করার পর হোকুলের এই ঘোষণাটিই এ ধরনের প্রথম পদক্ষেপ। তিনি জানিয়েছেন, নিউ ইয়র্ক শহরে সাতটি ও স্টেটের অন্যান্য এলাকায় ১০১টি সংক্রমণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে নিউ ইয়র্কেও পার্শ্ববর্তী স্টেট পেনসিলভানিয়ার কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন যে, চলতি বছর অঙ্গরাজ্যটিতে হামে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। গত তিন দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এটিই হামের সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব। টেক্সাস, ইউটা, ওহাইও এবং সাউথ ক্যারোলিনায়ও এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেশী পেনসিলভানিয়ার কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, চলতি বছর অঙ্গরাজ্যটিতে হামে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে; গত তিন দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এটিই হামের সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব। টেক্সাস, ইউটা, ওহাইও এবং সাউথ ক্যারোলিনাতেও এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এ পরিস্থিতির জন্য টিকাদানের হার কমে যাওয়াকে দায়ী করছেন। তাদের মতে, প্রাদুর্ভাব রোধে টিকাদানের হার ৯৫ শতাংশ থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে তা এর নিচে নেমে গেছে।
সমালোচকদের মতে, টিকাবিরোধী আন্দোলনের জনপ্রিয়তার কারণেই এই হার কমেছে। এ আন্দোলনটি বেশ জোরদার হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ভেতরও টিকাবিরোধী সমর্থক তৈরি হয়েছে। যাদের মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্য ও মানবসেবাবিষয়ক মন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র।



