পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নীতিতে সৌদিকে ছাড় যুক্তরাষ্ট্রের

ওয়ান-টু-থ্রি নামে সৌদির সঙ্গে এ চুক্তি এবং একটি বাধ্যতামূলক পারমাণবিক সুরক্ষা চুক্তি পর্যালোচনার জন্য এখনো কংগ্রেসের কাছে তা পেশ করা হয়নি।
নীতিতে কঠোর হলেও সৌদি আরবের বেলায় নিজেই সেই আন্তর্জাতিক নিয়ম মানছে না বিশ্ব মোড়ল যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সম্মত হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নিজস্ব সূত্রের বরাতে গত শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন। দেশটিকে নিজস্ব মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিয়ে একটি পারমাণবিক চুক্তির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত সই না মেলায় চুক্তিটি আটকে রয়েছে বলে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমটি।
যুক্তরাষ্ট্র-সৌদির পারমাণবিক চুক্তির আলোচনা শেষ হয় ২০২৫ সালের অক্টোবরে। তবে নতুন নীতির সঙ্গে অবগত দুটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে ট্রাম্পের স্বাক্ষরের বিষয়টি বিলম্বিত হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট আরও এক সূত্র জানিয়েছে, ক্যাপিটল হিলের একটি অংশ মনে করে, দ্বিদলীয় যৌথ বিরোধিতার মুখে চুক্তিটি বাতিল হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তি স্বাক্ষর বিলম্বিত করছে। এটি মার্কিন আইন প্রণয়নকারীদের আপত্তির কারণে চুক্তিটি ঝুলিয়ে রাখার একটি কৌশলগত বিলম্ব বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ আংশিকভাবে শুরু হয়েছিল তেহরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যে। কিন্তু এখন সৌদির সঙ্গে এ চুক্তির কথা বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নীতি মানছে না।
সিএনএনকে চারটি সূত্র আরও জানিয়েছে, ওয়ান-টু-থ্রি নামে সৌদির সঙ্গে এ চুক্তি এবং একটি বাধ্যতামূলক পারমাণবিক সুরক্ষা চুক্তি পর্যালোচনার জন্য এখনো কংগ্রেসের কাছে তা পেশ করা হয়নি। দেশটির আইন অনুযায়ী, কংগ্রেসে পেশ করার আগে হোয়াইট হাউজের স্বাক্ষর প্রয়োজন। এ বিষয়ে জানতে সিএনএন হোয়াইট হাউজে যোগাযোগ করলে তারা চুক্তিসংক্রান্ত প্রশ্নের কোনো উত্তর দেয়নি। পরিবর্তে জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট অক্টোবর ২০২৫-এর একটি বিবৃতির দিকে নির্দেশ করেছেন, যেখানে আলোচনা সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই চুক্তিতে জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থার (আইএইএ) কঠোর তদারকির নিয়মটি রাখা হয়নি। ফলে সংস্থাটি চাইলেই সৌদির সন্দেহভাজন পরমাণুকেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করতে পারবে না।
যুক্তরাষ্ট্র-সৌদির এ চুক্তি নিয়ে সতর্ক করেছেন ‘আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশন’-এর অপসারণ নীতিবিষয়ক পরিচালক ডেভেন পোর্ট। তিনি বলেছেন, পারমাণবিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে ‘সুনির্দিষ্ট বা বিশেষায়িত’ ব্যবস্থার নজির স্থাপন করা হলে তা রাশিয়া ও চীনকে অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে।




