শিশু-কিশোরদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবার তুরস্কেও

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা-সংক্রান্ত কঠোর বিধিনিষেধের জন্য জোর প্রচেষ্টা চলছে বিশ্বব্যাপী। ফ্রান্স, কানাডার পর এবার যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন আইন আরোপ করেছে তুরস্ক। ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটি গতকাল শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর ঘোষণা করেছে নিষেধাজ্ঞা। এটি কার্যকর হবে ১ নভেম্বর থেকে।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে এ আইন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পার্লামেন্টে আইনটি পাস হওয়ার পর সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয় এই সিদ্ধান্তটি। আইনটিতে বলা হয়েছে, কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষার বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ, যেমন বয়স যাচাইকরণ গ্রহণ করতে হবে। আইনটির ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বয়স যাচাইকরণ ব্যবস্থাটি সরকার প্রদত্ত একটি ‘টোকেন’-এর মাধ্যমে কাজ করবে। এ আইনে ১৫ বছরের বেশি বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্যও রাখা হয়েছে বিধান। সেটিতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের এমন কোনো পরিষেবা দিতে পারবে না, যা ‘আসক্তি তৈরি করতে পারে’। দেশটির নতুন এ আইনের মূল লক্ষ্যই শিশুদের স্ক্রিন-আসক্তি, ঘুমের অভাব, বুলিং এবং খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যার মতো ডিজিটাল ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা।
পলিটিকোর গতকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্ক প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর আরোপ করে থাকে কঠোর বিধিনিষেধ। দেশটি কখনো কোনো সংবাদমাধ্যম বা কর্মীর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করে, আবার কখনো পুরো প্ল্যাটফর্মেই প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেয়। ২০২৪ সালে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে ব্যবহারকারীদের পোস্ট সেন্সর করার অভিযোগ তুলে মেটা-মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামকে এক সপ্তাহের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল আঙ্কারা। যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক থিংক ট্যাংক ‘ফ্রিডম হাউজ’-এর ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনে তুরস্কের ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে অভিহিত করা হয়েছে ‘নট ফ্রি’ বলে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের পক্ষ থেকে দীর্ঘ সময় ধরে চলা তীব্র চাপের মুখে গত সেপ্টেম্বরে ইউনিয়নটি শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিও-শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের একটি আইনি প্রস্তাব পেশ করে। এই প্রস্তাব দেওয়া হয় ১৫ বছর বয়স পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত শিশুদের এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আনার লক্ষ্যেই।



