প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে পাকিস্তানই
- চীনা বংশোদ্ভূত কানাডীয় শিক্ষাবিদ জিয়াং সুয়েচিনের ভবিষ্যদ্বাণী

ছবি: রয়টার্স
অবস্থা বেগতিক দেখলে প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে পাকিস্তানই— এমনটাই মনে করেন চীনা বংশোদ্ভূত কানাডীয় শিক্ষাবিদ জিয়াং সুয়েচিন। ভারতীয় ইউটিউবার রাজ শামানির সঙ্গে এক পডকাস্টে এ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি গত ১১ আগস্ট ইউটিউবে প্রকাশিত হয়।
ভবিষ্যতের কোনো সংঘাতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ‘ভয়ংকর’ এই ভবিষ্যদ্বাণী করেন তিনি। তার মতে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যেকোনো একটি দেশের প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দুদেশের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হলে সেটি পাকিস্তান হবে বলে অনুমান করেন এই শিক্ষাবিদ।
তত্ত্বভিত্তিক পূর্বাভাসের জন্য বেশ পরিচিত জিয়াং সুয়েচিন। তিনি নিজেকে শিক্ষাবিদ ও ভূরাজনৈতিক ভাষ্যকার হিসেবে পরিচয় দেন। ২০২৪ সালে ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফেরা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধের মতো বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক পূর্বাভাসের কারণে পরিচিতি পান তিনি।
প্রায় দুই ঘণ্টার আলোচনায় একপর্যায়ে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রথমে তিনি আসন্ন কোনো পারমাণবিক যুদ্ধের পূর্বাভাস দেননি। বরং এর ঠিক বিপরীত কথাই বলেন। তার ভাষায়, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি বিশ্বাস করি না যে, আমাদের জীবদ্দশায় কখনো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহৃত হবে; কারণ পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে বিশ্ব জুড়ে এক ধরনের সর্বজনীন নিষেধাজ্ঞা বা অনীহা কাজ করে।’
এরপরই তিনি বলেছেন, ‘তবে কোন দেশটি সম্ভবত সবার আগে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে— এ বিষয়ে যদি আমাকে অনুমান করতে হয়, তবে সেটি হবে ভারত কিংবা পাকিস্তান। সম্ভবত পাকিস্তান।’
সুয়েচিনের মতে, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা দেশটির যুদ্ধ করার ইচ্ছার চেয়ে অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত। পাকিস্তানের এই অস্ত্র ব্যবহারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি দেশটিকে ‘অত্যন্ত দুর্বল, বিশৃঙ্খল ও দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে বর্ণনা করেন। তার আশঙ্কা, জরুরি পরিস্থিতিতে দেশটির নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা হয়তো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট কার্যকর নাও হতে পারে।
তার এই বিশ্লেষণের কেন্দ্রে রয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের পারমাণবিক নীতির পার্থক্য। তার মতে, দুদেশের পারমাণবিক কৌশল এক নয়। তার বিশ্বাস, যদি পারমাণবিক অস্ত্র একসময় ব্যবহার হয়ই, তাহলে সেটি হবে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে।
ভারত দীর্ঘদিন ধরে ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ বা আগে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতি ঘোষণা করে আসছে। যদিও সময়ের সঙ্গে এই নীতি নিয়ে বিতর্ক ও কিছুটা পরিবর্তনের আলোচনা হয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ নীতি গ্রহণ করেনি। বরং ভারতের তুলনামূলক বড় প্রচলিত সামরিক সক্ষমতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
পারমাণবিক বোমা প্রথম ও একমাত্রবারের মতো ব্যবহৃত হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। এরপর থেকে অনেক দেশ পারমাণবিক অস্ত্রের প্রযুক্তি অর্জন করেছে এবং এসব অস্ত্রও আগের চেয়ে আরও বেশি বিধ্বংসী হয়ে উঠেছে।
জিয়াংয়ের এই মন্তব্যের আগে থেকেই তার পরিচয় নিয়ে একটি বিষয় আলোচনায় রয়েছে। গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাংবাদিক মেহেদি হাসানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছিলেন, তিনি প্রকৃতপক্ষে কোনো অধ্যাপক নন; মানুষ তাকে অধ্যাপক বলে ডাকতে শুরু করেছে।






